শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০১৫

এক সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের কথা উঠলেই সেখানে বেড়াতে যাওয়ার কথা উঠতো, কিন্তু যাওয়া হতো না; পরে তার কথা উঠলেই ভয়ে গা শিউরে উঠতে থাকে, কেউ সেখানে যাওয়ার কথা ভাবতেও পারে না। আমরা শুনেছি বিদ্রোহ করেছেন উপজাতীয়রা; ওই লাল পাহাড় আর চিরহরিৎ বনের ভেতর দিয়ে বয়ে চলছে পারস্পরিক হিংসাঘৃনাবিদ্বেষের পংকিল ঝরনাধারা। পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ’রে আছে পাহাড়ে, তার পাশ দিয়ে বয়ে চলছে ঝরনা, সেগুলোকে বলা হয় ‘ছড়ি’ বা ‘ছড়া’ ওই ছড়িগুলো দিয়ে জলের মতোই বয়ে চলছে ঘৃণা আর হিংসা, যাতে কালো হয়ে আছে সবুজ পাহাড়গুলো, তার রাঙা মাটি। পার্বত্য চট্টগ্রামের সরল শাদা মঙ্গোলীয় মানুষের মনে আর নির্মল ঝরনাধারা নেই। তাঁরা স্বাধীনতা চান, নইলে স্বায়ত্তশাসন চান; তাঁরা দাবি করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হবে, এর থাকবে নিজস্ব আইন পরিষদ; পার্বত্য আদিবাসী জনগণের অধিকার সংরক্ষণের জন্য ১৯০০ সালের শাসন বিধির অনুরূপ সংবিধি থাকতে হবে শাসনতন্ত্রে; থাকবে রাজাদের দপ্তর; পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয় নিয়ে কোনো শাসনতান্ত্রিক সংশোধন বা পরিবর্তন যেন না হয় শাসনতনেত্র থাকতে হবে এমন সংবিধি ব্যবস্থা। তাঁদের দাবিগুলো মেনে নেয়া হয় নি, কেননা মেনে নেয়া অসম্ভব; তাই তাঁদের বিদ্রোহ। হুমায়ন আজাদ এ-ছোটো বইটিতে নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ও তার সমস্যাকে; বইটি হয়ে উঠেছে একই সঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সাহিত্য—গভীর ও অন্তর্ভেদী, যা পাঠকের চেতনার ভেতরে সঞ্চারিত করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে।
মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০১৫
বিক্রমপুর পরগাণার রাড়িখাল গ্রামে, ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৮শে এপ্রিলে জন্মগ্রহণ করেন। ইনি স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু ইন্সটিটিউশন থেকে ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক এবং ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। উল্লেখ্য উভয় ক্ষেত্রেই তিনি প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হন। ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল বাংলা ভাষায় সর্বনামীয়করণ।
হুমায়ুন আজাদ যখন ৬০-এর দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা পড়ছিলেন, তখন ভাষাবিজ্ঞানে চম্স্কি-উদ্ভাবিত সৃষ্টিশীল রূপান্তরমূলক ব্যাকরণ তত্ত্বটি আলোড়নের সৃষ্টি করেছিল। তিনিই প্রথম এই তত্ত্বের কাঠামোর উপর ভিত্তি করে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাকর্ম সম্পাদন করেন। তাঁর পিএইচডি অভিসন্দর্ভের নাম ছিলPronominalization in Bengali (অর্থাৎ বাংলা সর্বনামীয়করণ)। পরবর্তীতে এটি একই শিরোনামের ইংরেজি বই আকারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
ডাউনলোড করুন বইটি
শনিবার, ৯ মে, ২০১৫
ধর্মীয় টানাপোড়েনে দেশের যে নাজেহাল অবস্থা সাম্প্রতিককালে তাতে এই বইটি আরোও বেশী অর্থবহ হয়ে উঠেছে। অনেকেই হয়তো অসংলগ্ন কথাবার্তার দিকে আঙ্গুল তুলবেন। স্পষ্টতই ধর্মীয় অসারতাকে কটাক্ষ করা হয়েছে এবং তা যথার্থ যুক্তিযুক্ত। কারও ব্যক্তিগত অনুভূতিতে আঘাত হানার প্রয়াস বলবো না একে, বরং পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়ের নোংরা দিকটি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
শুরুতে নৈরাশ্যবাদিতার দায়ে দুষ্ট হলেও শেষের দিকে কিঞ্চিৎ আশার আলো ও তিনি দেখিয়েছেন।
দুই যুগ পার হয়ে গেলেও কিছুই বদলায়নি আসলে। সবকিছু আগের মতোই ধুকে ধুকে চলছে, শুধু তিনি দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে গেছেন।
ডাউনলোড লিঙ্ক
ডাউনলোড করুন কতো নদী সরোবর বা বাংলা ভাষার জীবনী – হুমায়ুন আজাদ
লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ
ডাউনলোড করুন রাজনীতিবিদগণ-হুমায়ুন আজাদ
ডাউনলোড করুন দ্বিতীয় লিঙ্গ – সিমোন দ্য বোভোয়ার (অনুবাদক-হুমায়ুন আজাদ)
কোথা থেকে এসেছে আমাদের বাংলা ভাষা? ভাষা কি জন্ম নেয় মানুষের মতো? বা যেমন বীজ থেকে গাছ জন্মে তেমনভাবে জন্ম নেয় ভাষা? না, ভাষা মানুষ বা তরুর মতো জন্ম নেয় না। বাংলা ভাষাও মানুষ বা তরুর মতো জন্ম নেয়নি, কোনো কল্পিত স্বর্গ থেকেও আসেনি। এখন আমরা যে বাংলা ভাষা বলি এক হাজার বছর আগে তা ঠিক এমন ছিল না। সে ভাষায় এ দেশের মানুষ কথা বলত, গান গাইত, কবিতা বানাত। মানুষের মুখে মুখে বদলে যায় ভাষার ধ্বনি। রূপ বদলে যায় শব্দের, বদল ঘটে অর্থের। অনেক দিন কেটে গেলে মনে হয় ভাষাটি একটি নতুন ভাষা হয়ে উঠেছে। আর সে ভাষার বদল ঘটেই জন্ম হয়েছে বাংলা ভাষার। আরো পড়তে আজই সংগ্রহ করুন, হুমায়ূন আজাদের “কতো নদী সরোবর বা বাংলা ভাষার জীবনী”। বইটিতে সূচীপত্রে হাইপারলিঙ্ক করা আছে। ক্লিক করলেই কাংক্ষিত পাতায় চলে যেতে পারবেন। বইটি কেমন লাগলো আশা করি জানাবেন।
ডাউনলোড লিঙ্ক
ডাউনলোড করুন লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ
হুমায়ুন আজাদের দ্বিতীয় লিঙ্গ ডাউনলোড করুন এখান থেকে
হুমায়ুম আজাদের “রাজনীতিবিদগণ” ডাউনলোড করুন এখানে
বাংলাদেশের অন্যতম প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস সম্পর্কিত কিশোরসাহিত্য-গ্রন্থ।১৯৭৬ সালে বাংলা একাডেমী ঢাকা থেকে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে আগামী প্রকাশনী, ঢাকা থেকে এটি পুনরায় গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
আজাদ এই বই উৎসর্গ করেছেন নাজমা বেগম, সাজ্জাদ কবির এবং মঞ্জুর কবিরকে।
ভূমিকায় হুমায়ুন আজাদ বলেছেন, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে একটি দীর্ঘ কবিতার মত করে বইটা লেখা হয়েছিল। বাংলা সাহিত্যের পুরো ইতিহাসটা এতো প্রাঞ্জল এবং আকর্ষণীয় করে অন্য কোনভাবে ফুটিয়ে তোলা যেতো বলে মনে হয় না। প্রাচীন চর্যাপদের মাঝে প্রাগৈতিহাসিক গন্ধ, প্রাচীন যুগ পরবর্তী অন্ধকার যুগের বিষাদ, মধ্যযুগের শুরুতে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মহিমা, মঙ্গলকাব্যের কাহিনীর উপন্যাসীয় ডিটেল কিন্তু দৈর্ঘ্যের কারণে নেমে আসা অবসাদ, বৈষ্ণব পদাবলীর উজ্জ্বলতম আলো, আলাওলের বন্ধুর জীবন এবং পদ্মাবতির মহাকাব্যিকতা, মুসলিম কবিদের প্রথমবারের মতো মানুষের কথা বলার তাৎপর্য, বঙ্গীয় রেনেসাঁর শুরুতে মধূসূদনের গগনচুম্বী প্রতিভার ঝলক, গদ্যের মধ্যেও বিদ্যাসাগরের ছন্দ আবিষ্কার, বিহারীলালের রোমান্টিকতা, প্রতিদিনের সূর্য রবীন্দ্রনাথের রোমান্টিক ও আধুনিক কাব্যে অভূতপূর্ব প্রতিভার স্বাক্ষর, বুদ্ধদেব বসু-জীবনানন্দ দাস-বিষ্ণু দে-সুধীন্দ্রনাথ দত্ত-অমীয় চক্রবর্তী দের হাত ধরে আধুনিক কবিতার জন্ম, আর সবশেষে আরও হাজার হাজার বছর ধরে জ্বলতে থাকবে বাংলা সাহিত্যের লাল নীল দীপাবলি- এই আশ্বাস- এই সবকিছুর স্বাদ একটা ছোট্ট বইয়ের কাব্যিক বর্ণনায় পাওয়াটা রীতিমত শ্বাসরুদ্ধকর।
ডাউনলোড করুন বইটি
হুমায়ুন আজাদের দ্বিতীয় লিঙ্গ ডাউনলোড করুন এখান থেকে
হুমায়ুম আজাদের "রাজনীতিবিদগণ" ডাউনলোড করুন এখানে
শুক্রবার, ৮ মে, ২০১৫
‘কেউ নারী হয়ে জন্ম নেয় না, বরং হয়ে ওঠে নারী,’ নারী সম্পর্কে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ও স্মরণীয়তম এ-মন্তব্যটি সিমোন দ্য বোভোয়ারের, যিনি শুধু বিশশতকের নয়, চিরকালের শ্রেষ্ঠ নারীদের, অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ মানুষদের, একজন। ফরাশি ঔপন্যাসিক, দার্শনিক, ও প্রাবন্ধিক সিমোন দ্য বোভোয়ারের মহত্তম গ্রন্থ ল্য দ্যজিয়েম সেক্স, ইংরেজিতে যা বিশ্ববিখ্যাত দি সেকেন্ড সেক্স নামে, বাঙলায় দ্বিতীয় লিঙ্গ। নারীবাদের জননী মেরি ওলস্টোনক্র্যাফট ছিলেন নারীমুক্তির জোয়ান অব আর্ক, আর সিমোন দ্য বোভোয়ার নারীবাদের আইনস্টাইন। সভ্যতাবাপী নারীর পরিস্থিতি সম্পর্কে এমন অসাধারণ গ্রন্থ আর লেখা হয় নি, সম্ভাবনাও নেই, অদ্বিতীয় এ-গ্রন্থ; প্রজ্ঞা ও শিল্পিতার অনন্য নিদর্শন দ্য বোভোয়ারের দ্বিতীয় লিঙ্গ, যার পাতা থেকে বেরিয়ে এসেছে বিশশতকের দ্বিতীয়াংশের নারীবাদ, এবং পুরুষতান্ত্রিক সভ্যতাকে বদলে দিয়েছে নানাভাবে। অবিবাহিত, সন্তানহীন, জাঁ-পল সার্ত্রের আমরণ বান্ধবী হিশেবে কিংবদন্তি, যদিও অন্য প্রেমের কাছেও ধরা দিয়েছেন তিনি মাঝেমাঝে, দ্য বোভোয়ার গণ্য হয়ে থাকেন আধুনিক নারীবাদের জননীরূপে, যার কাছে ঋণী আমরা সবাই। তাঁর মহাগ্রন্থটি বাঙলায় অনুবাদ হয় নি, এ-দুরূহ জটিল বিস্ময়কর গ্রন্থের মুখোমুখি দাঁড়ানো কঠিন; এবং এ-কাজটি করেছেন হুমায়ুন আজাদ, যিনি তাঁর নারী নামক একদা নিষিদ্ধ বইটির জন্যে হয়ে উঠেছেন বাঙলায় নারীবাদের প্রধান প্রবক্তা। হুমায়ুন আজাদ অসাধারণ গদ্যে প্রকাশ করেছেন মূল গ্রন্থের জ্ঞান ও সৌন্দর্য, যা বাঙলার পাঠকদের কাছে এক অলৌকিক বিস্ময় ব’লে মনে হবে।
