রবিবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৬
দ্য সি-হক
রাফায়েল সাবাতিনি/ইসমাইল আরমান
Download
বৃহস্পতিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৬
....... লোকদুটি কোদাল ও শাবল মাটিতে ফেলে নিঃশব্দে লাফিয়ে পড়ল সমাধিক্ষেত্রে । তারপরে আস্তে আস্তে সেই লোকগুলোর দিকে এগিয়ে গেল ।চোখে তাদের হর্ষ, উদ্বেগ, ভয় । কিছুদুরে লোকগুলো কবর খুঁড়ছিল...... যাক শেষ হলো তাদের কবর দেয়া ।সেই লোকদুটির এবার কর্মক্ষেত্রে নামার সময়...... তারা দুজনে খুব তাড়াতাড়ি গর্ত খুরতে লাগলেন । উত্তেজনায় সারা শরীর ঠক ঠক করে কাঁপছিল, কপালে জমে উঠছিল ঘাম । চোখের পাতা পরছে না, শুধু হাত চালাও হাত চালাও আর সময় নেই........ তারা শবধারটা টেনে তুললেন তারপর......
![]()
অজানার প্রতি দুর্নিবার আকর্ষনে বাড়ি ছেলে পালাল হাকলবেরি ফিন। সঙ্গী তার জিম নামের এক ক্রীতদাস। রোমাঞ্ছকর সব অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়ে এগিয়ে চলল ওরা মুক্ত জীবনের সন্ধানে। বিশ্ব সাহিত্যের এক অমুল্য রত্ন মার্ক টোয়েন-এর "হাকলবেরি ফিন-এর দুঃসাহসিক অভিযান" সম্পুর্ন বাংলায়!!
বুধবার, ৩০ মার্চ, ২০১৬
তারাস বুলবা- এর কাহিনী ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকের। তুরস্কের সুলতান দক্ষিণে সবসময়ই ইউক্রেনীয়দের সাথে শত্রুতা বাঁধিয়ে রাখত। তার ওপর এসে পড়ে আর এক অশান্তি। ১৫৬৯ খ্রিস্টাব্দে ইউক্রেন দখল করে পোলরা। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনীয় জনগণের মধ্যে জেগে ওঠে তীব্র প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ। ইউক্রেনীয় ভূমিদাসেরাই ছিল এইসব বিদ্রোহ ও প্রতিরোধের চালিকাশক্তি। প্রতিরোধকারী ইউক্রেনীয় ভূমিদাসদের মধ্যে কসাক-সম্প্রদায়ের জনসাধারণের অবদান ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। সেই কসাক-বীরত্বই বাঙময় হয়ে উঠেছে ‘তারাস বুলবা’ উপন্যাসে। তারাস বুলবা উপন্যাসের গভীর ভাববাণী, সত্যনিষ্ঠ রোমাঞ্চকর চরিত্রসমূহ ও ইউক্রেনীয় জীবনযাত্রার বর্ণনার চমৎকারিত্বের জন্য এই মহাকাব্যিক উপন্যাসটি কালের শরীরে স্থায়ী দাগ রেখে গিয়েছে। নিকোলাই গোগোলের ‘তারাস বুলবা’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৩৫ সালে। ‘তারাস বুলবা’ তিনি লিখতে শুরু করেন ১৮৩৩ সালে। ১৮৩৫ সালে তারাস বুলবা উপন্যাসের আমূল পরিমার্জন করেন।
ডাউনলোড

নর-নারীর প্রেম হলো সবচাইতে জটিলতম শিল্পকর্ম । প্রেমেজ একটি অঙ্গীকার না থাকলে প্রেমের কাহিনী বয়ান করা যায় না । আহমদ ছফা অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী উপন্যাসে প্রেমেজ অঙ্গীকার নিয়েই প্রেমের কথা বলেছেন । লেখক একেকটি নারী চরিত্রকে এমন জীবন্তভাবে উপস্থাপন করেছেন ,নারীদের মনো-জগতের এমন উম্মোচন ঘটিয়েছেন ; গ্রন্থটি পাঠ করলে মনে হবে জীবনের করুণতম অভিজ্ঞতার উৎস থেকেই জন্ম লাভ করেছে এই সমস্ত চরিত্র । প্রেমে পড়ার জন্য যেমন সৎ ,একনিষ্ঠ হৃদয়বৃত্তির প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন প্রেম কথা বয়ান করার জন্য আরেক ধরনের নিষ্ঠা এবং সততার । শক্তির সঙ্গে সততার সম্মিলন সচরাচর ঘটে না । আহমদ ছফা এই অনুপম রচনাটিতে সেই আপাত অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন । মনস্বীতাসম্পন্ন অনেকগুলো উপন্যাস আহমদ ছফার কলম থেকে বেরিয়েছে ।নর-নারীর প্রেমকে উপজীব্য করে তাঁর উপন্যাস লেখার এটিই প্রথম প্রয়াস । অসাধারণ লিপি-কুশল লেখকের এই ধ্রুপদধর্মী উপন্যাসটিতে মানব-মানবীর প্রেম যে, এক কথা নতুনতরো ব্যঞ্জনায় দেদীপ্যমান হয়ে উঠেছে , সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না ।
Download
জর্জ অরওয়েলের প্রকৃত নাম এরিক আর্থার ব্লেয়ার। ১৯০৩ সালে ভারতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা চাকরি করতেন ভারতের সিভিল সার্ভিসে। ১৯০৭ সালে সপরিবারে ইংল্যান্ডে চলে যান তারা। ১৯১৭ সালে ইটনে পড়াশোনা করার সময় সাহিত্য প্রতিভার বিকাশ ঘটে জর্জ অরওয়েলের। এ সময় বিভিন্ন কলেজ ম্যাগাজিনে নিয়মিত লিখতে থাকেন তিনি। ১৯২২ সাল থেকে ১৯২৭ সাল পর্যন্ত ভারতীয় পুলিশ বিভাগের হয়ে বার্মায় কাজ করেন অরওয়েল। চাকরির এই অভিজ্ঞতা তাকে প্রথম উপন্যাস লিখতে অনুপ্রেরণা যোগায়। ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত হয় তার বার্মিজ ডেজ"। পরবর্তীতে ক’টা বছর দারিদ্র্যের কষ্ট পোহাতে হয় অরওয়েলকে। ইংল্যান্ডে ফিরে যাওয়ার আগে দুটো বছর প্যারিসে কাটান তিনি। এ সময় জীবিকার জন্য বিভিন্ন কাজ করতে হয় তাকে। কখনো গৃহশিক্ষক ছিলেন, কখনো স্কুলে পড়াতেন, কখনো বা বইয়ের দোকানে বই বিক্রি করতেন। কাজের ফঁাকে ফঁাকে লেখালেখিও চালিয়ে গেছেন। বিভিন্ন সাময়িকীতে তখন তার বেশ কিছু লেখা ছাপা হয়। ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয় জর্জ অরওয়েলের ‘ডাউন অ্যান্ড আউট ইন প্যারিস অ্যান্ড লন্ডন’ । ১৯৩৬ সালে ভিক্টর গোলাঙ্কজের কাজ নিয়ে তিনি পরিদর্শন করতে যান ল্যাঙ্কাশায়ার এবং ইয়োর্কশায়ারের বেকারত্বপূর্ণ এলাকাগুলো। এই অভিজ্ঞতা থেকে পরবর্তীতে লেখেন “দ্য রোড টু উইগান পায়্যার’। ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত এই বইটিতে জর্জের নিজ চোখে দেখা দারিদ্র্যের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে নিখুঁত বর্ণনার মাধ্যমে। ১৯৩৬ সালের শেষ দিকে অরওয়েল স্পেন চলে যান প্রজাতন্ত্রের সমর্থনে যুদ্ধ করতে এবং আহত হন। গৃহযুদ্ধের এই অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি লেখেন ‘হোমেজ টু ক্যাটালোনিয়া’ বইটি। ১৯৩৮ সালে একটি স্যানাটোরিয়ামে কিছুদিন থাকতে হয় তাকে। এরপর থেকে কখনো পুরোপুরি সুস্থ হন নি তিনি। মরক্কো মাস ছয়েক ছিলেন অরওয়েল। এ সময় লেখেন ‘কামিং আপ ফর এয়ার’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হোম গার্ড এবং বিবিসির ইস্টার্ন সার্ভিসে কাজ করেন তিনি। ১৯৪১ সাল থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত উল্লিখিত কাজে নিয়োজিত ছিলেন। পরে সাহিত্যসম্পাদক হিসেবে যোগ দেন “ট্রিবিউন” পত্রিকায়। এ সময় রাজনীতি এবং সাহিত্য নিয়ে নিয়মিত লিখতেন তিনি। একই সঙ্গে অবজারভার’ এবং ‘ম্যানচেস্টার ইভনিং নিউজ’ পত্রিকায়ও লিখেছেন। তার রূপকধৰ্মী চমৎকার রাজনৈতিক উপন্যাস ‘অ্যানিমেল ফার্ম’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে। ১৯৯৫ সালে এই বইটি ডাব্লিউ. এইচ. স্মিথ এবং পেঙ্গুইন বুকস থেকে শতাব্দীর সেরা বই'এর পুরস্কার অর্জন করে। মূলত ‘অ্যানিমেল ফার্ম এবং ‘নাইনটিন এইটি-ফোর’ (১৯৪৯ সালে প্রকাশিত)—এই দুটি বইয়ের জন্যই জর্জ অরওয়েল বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। ১৯৫০ সালের জানুয়ারিতে লন্ডনে মৃত্যুবরণ করেন এই খ্যাতিমান লেখক। পেঙ্গুইন সংস্করণের ভূমিকা “অ্যানিমেল ফার্ম" ইংল্যান্ডে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালের ১৭ আগস্ট। এর এক বছর পর বইটি প্রকাশিত হয় যুক্তরাষ্ট্রে। “অ্যানিমেল ফার্ম প্রকাশিত হওয়ার আগে ব্রিটেন এবং আমেরিকায় জর্জ অরওয়েলের নয়টি বইয়ের (ইনসাইড দ্য হোয়েল এবং দ্য লায়ন অ্যান্ড দ্য ইউনিকর্মসহ) প্রকাশিত কপির সংখ্যা ছিল ১,৯৫,৫০০। এর মধ্যে ‘দ্য রোড টু উইগান পায়্যার’-এর সংখ্যা ছিল ৪৭,০৭৯ এবং পেঙ্গুইন বুকস থেকে প্রকাশিত ‘ডাউন অ্যান্ড আউট ইন প্যারিস অ্যান্ড লন্ডন এবং বার্মিজ ডেজ’ বই দুটি মিলিয়ে কপির সংখ্যা ছিল ১,১৫,০০০। পেঙ্গুইন থেকে এই বই দুটি প্রকাশিত হয় যথাক্রমে ১৯৪০ এবং ১৯৪৪ সালে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কাগজসঙ্কটের কারণে ‘অ্যানিমেল ফার্ম’-এর সীমিতসংখ্যক কপি প্রকাশিত হয় ব্রিটেনে। তবে ১৯৫০ সালের জানুয়ারিতে যখন জর্জ অরওয়েল মৃত্যুবরণ করেন, সে সময় বইটির প্রকাশিত কপির সংখ্যা পৌছে গিয়ে ২৫,৫০০-তে। সে সময় আমেরিকায় ‘অ্যানিমেল ফার্ম’ প্রকাশিত হয় ৫,৯০,০০০ কপি। প্রকাশিত কপির এই বিশাল পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে বিপুল সাফল্য এনে দেয় ‘অ্যানিমেল ফার্ম"-কে। ব্যাপক প্রচার এবং ব্যবসায়িক প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বইটি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিতও হয় সে সময় । অরওয়েলের জীবদ্দশাতেই, জীবনের শেষ কটি বছরে ইউরোপের প্রধান ভাষাগুলোতে অনূদিত হয় ‘অ্যানিমেল ফার্ম। বিশেষ করে পারসিয়ান, তেলুগু, আইসল্যান্ডিক এবং ইউক্রেনিক ভাষায় বইটির ভাষান্তর ছিল উল্লেখযোগ্য সাফল্য । কিন্তু বইটি ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের পেছনে মূল কারণটি কী? বইটি বিভিন্ন ধরনের পাঠকের মনোযোগ কেড়ে নেওয়ার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি ছিল প্রচ্ছদ-পাতার বৈচিত্র্য। অরওয়েল তার বইটিকে ‘আ ফেইরি স্টোরি’ বলে উল্লেখ করেন। সেকার অ্যান্ড ওয়ারবার্গ এবং পেঙ্গুইন বুকস থেকে ‘অ্যানিমেল ফার্ম’-এর যত সংস্করণ বেরিয়েছে, প্রতিটাতেই লেখকের এই কথাটি দেখা গেছে। কিন্তু আমেরিকানরা 'আ ফেইরি ক্টোরি’ বাদ দেয় বই থেকে। অরওয়েলের জীবদ্দশায় ‘অ্যানিমেল ফার্ম’-এর যত অনুবাদ বেরোয়, সেগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র তেলুগু ভাষায় অনূদিত বইয়ে আ ফেইরি ষ্টোরি’ কথাটি থেকে যায়। অন্যান্য ভাষার বইয়ে সাব-টাইটেল ছিল—“আ স্যাটায়ার’, ‘আ কন্টেম্পোরারি স্যাটায়ার’, কিংবা ‘অ্যাডভেঞ্চার' অথবা নিছক টেল’ । সাব-টাইটেলের বৈচিত্র্য ছাড়াও বইটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কাহিনীবিন্যাসে দু দুবার পরিবর্তন। একবার পরিবর্তন করা হয় প্রথম সংস্করণের সময়। কিছু ভুলক্রটি শুধরে নেওয়ার জন্য। আরেকবার পরিবর্তন করা হয় কাহিনী-বিন্যাস ঠিক হয় নি ভেবে। ১৯৪৫ সালের মার্চে প্যারিসে কাজ করছিলেন অরওয়েল, “অবজারভার' এবং ম্যানচেষ্টার ইভনিং নিউজ’-এর জন্য যুদ্ধের খবরাখবর পাঠাতেন। সে সময় জোসেফ জাপৃস্কির সাথে দেখা হয় তার, যিনি সোভিয়েত বেসামরিক বন্দীশিবির থেকে বহুকষ্টে উদ্ধার পেয়েছিলেন। বন্দীশিবিরের নির্মম অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও এবং সোভিয়েত শাসনতন্ত্রের ঘোর বিরোধী হওয়ার পরেও জাপৃস্কি অরয়েলকে বলেন, “অ্যানিমেল ফার্মে মূলত স্ট্যালিনের মহানুভবতাই ফুটে উঠেছে... ।’ জার্মানরা যখন রাশিয়া দখলের প্রস্তুতি নেয়, তখন অসীম দৃঢ়তার সাথে মস্কো অবস্থান করেন ষ্ট্যালিন। তার বিপুল সাহসের কারণেই রুশরা জার্মানদের ঠেকিয়ে দেওয়ার শক্তি অর্জন করে। নেপোলিয়নের মাঝে স্ট্যালিনের প্রতিচ্ছবি আবিস্কার করেন জাপৃস্কি। যদিও নেপোলিয়নের মাঝে স্ট্যালিনের অত্যাচারী ভাবটা প্রবল, তবেকিছু কিছু ক্ষেত্রে স্ট্যালিনের চারিত্রিক দৃঢ়তা নেপোলিয়নের মাঝে ফুটিয়ে তোলার কথা ভাবেন অরওয়েল। বইটির অষ্টম অধ্যায়ের কিছু অংশ পরিবর্তনের জন্য প্রকাশককে চিঠি লেখেন তিনি। প্রচণ্ড বিস্ফোরণে যখন উইন্ডমিলের পতন হয়, তখন নেপোলিয়নসহ সব পশু আতঙ্কে নিজেদের গুটিয়ে নেয় মাটিতে শুয়ে । অরওয়েল এখানে নেপোলিয়নকে অটল রেখে দেন আগের লেখা শুধরে। এখানে নেপোলিয়নের মাঝে স্ট্যালিনের প্রকৃত ভূমিকাটিই ফুটে উঠেছে জার্মানদের আক্রমণের মুখে। ১৯৪৬ সালের শেষ দিকে, বিবিসির থার্ড প্রোগ্রামের জন্যে ‘অ্যানিমেল ফার্ম’-কে প্রচার-উপযোগী করে সাজান অরওয়েল । ২ ডিসেম্বর আমেরিকার পলিটিক্স পত্রিকার সম্পাদক ডুইট ম্যাকডোনাল্ড বলেন তার মতে ‘অ্যানিমেল ফার্ম’-এর আবেদন রয়েছে শুধুমাত্র রাশিয়ায়, এবং এ বইয়ে বিপ্লবের দর্শন নিয়ে বড় ধরনের কোনো মতামত প্রকাশ করেন নি অরওয়েল। উল্লেখ্য যে, ম্যাকডোনাল্ড অরওয়েলের একজন বন্ধুও ছিলেন। তার মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে অরওয়েল বলেন, ‘অ্যানিমেল ফার্ম যদিও প্রথমত রুশ বিপ্লবের ওপর একটি ব্যঙ্গাত্মক রচনা, কিন্তু এর আবেদন ব্যাপক। এ ধরনের বিপ্লবের নাম দিয়েছেন তিনি—“হিংস্র ষড়যন্ত্রমূলক বিপ্লব।’ ক্ষমতালোভীরা অন্ধের মতো ছোটে এই বিপ্লবের পেছনে, এবং পরিণতিতে শুধু কর্তৃত্ব বদল হয়, সত্যিকারের সাম্য আসে না। অরওয়েল বলেছেন, “এ ধরনের বিপ্লবের ক্ষেত্রে পরিণতিটা কী হওয়া উচিত, তার পরিষ্কার ইঙ্গিত রয়েছে উপন্যাসে। এই বিপ্লবে আমূল পরিবর্তন আসবে তখনি, যখন জনতা সচেতন থাকবে নিজেদের অধিকারের ব্যাপারে এবং সতর্ক থাকবে-কখন কোন অনিয়মের ফলে উৎখাত করতে হবে নেতাদের। এ কাহিনীর নাটকীয় বাকটা আসে তখন, যখন আপেল আর দুধ নিজেদের জন্য রেখে দেয় শূকরেরা।’ ১৯২১ সালে এরকম অধিকারবঞ্চিত হওয়ার প্রতিবাদে সোভিয়েত শাসনতন্ত্রের বিরুদ্ধে ধর্মঘট শুরু হয় লেলিনগ্রাদে। আর এই ধর্মঘটের সমর্থনে নাবিক বিদ্রোহ দেখা দেয় ক্রোনস্তাদৃত-এ । তবে উপন্যাসের এই নাটকীয় বাঁকটা পাঠকের কাছে কতটুকু পরিস্কার হয়েছে, এ নিয়ে সংশয় ছিল অরওয়েলের। এজন্য রেডিওতে প্রচার-উপযোগী করার সময় সংলাপে কিছু পরিবর্তন আনেন তিনি। যেমন— ক্লোভার : আপেলগুলো যে এরা নিয়ে গেল, এটা কি ঠিক হল? কি বল তোমরা? মলি : কি, আপেল সব ওদের জন্যে রেখে দেবে নাকি? মুরিয়েল : আমরা কি কিছুই পাব না? গরু : আমার মনে হয়, আপেলগুলো ওরা সমানভাবেই ভাগ করে দেবে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ বাক্যগুলো কেটে দেন বিবিসির প্রযোজক রেনার হেপেনস্টল। অরওয়েল পরে আর সংশোধন করেন নি “অ্যানিমেল ফার্ম”। ফলে উল্লিখিত সংলাপগুলো বইয়ে স্থান পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। অথচ অরওয়েল তার এক ঘনিষ্ঠজনকে বলেছেন, এই সংলাপগুলোই ‘অ্যানিমেল ফার্ম’-এর ‘কী প্যাসেজ’ । পিটার ডেভিসন আলবেনি, লন্ডন অ্যানিমেল ফার্ম : মূলকথা ‘অ্যানিমেল ফার্ম’-এর জন্য প্রকাশক খুঁজতে গিয়ে বড় বিপাকে পড়ে যান অরওয়েল। এ বইয়ের জন্য তার হন্যে হয়ে প্রকাশক খুঁজে বেড়ানোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। প্রকাশকরাও মূলত রাজনৈতিক কারণেই বইটি প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন। বইটি ছিল সে সময়কার সোভিয়েত সরকারের শাসনপদ্ধতির ওপর মর্মভেদী আক্রমণ। এজন্যই এগিয়ে আসতে চান নি কোনো প্রকাশক। সোভিয়েত ইউনিয়ন তখন মিত্রদেশ ছিল ব্রিটেনের। অরয়েল অ্যানিমেল মার্ম লেখেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। তখন পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে হিটলার শাসিত জার্মানির নাৎসিদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে রাশিয়া। সেই সূত্রে রাশিয়া ছিল ব্রিটেনের মিত্র। আর তাই প্রকাশকরা চান নি রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো লেখা প্রকাশ হোক । ‘অ্যানিমেল ফার্ম যেমন ভালো একটা গল্প, তার আক্রমণটাও তেমনি জোরালো। যে বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে কাহিনী গড়ে উঠেছে, ব্যঙ্গবিদ্রুপের পরিপূর্ণ প্রভাব পড়েছে তাতে, এবং হয়তোবা গল্পের অর্থ এবং উদ্দেশ্যকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা কঠিন : অরওয়েল যেমন বলেছেন, ‘এটা হচ্ছে আমার প্রথম বই, যেখানে আমি সম্পূর্ণ সচেতন থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং শৈল্পিক উদ্দেশ্য এক করে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’ এবং আমরা নিদ্বিধায় বলতে পারি, এই এক করার চেষ্টাটা তার সফল হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে, একদম শুরুতে কিছু পাঠক এই বইটিকে নিছক একটি জীবজন্তুর গল্প হিসেবে ধরে নিয়েছিল। রাজনৈতিক দিক দিয়ে বইটি রুশ বিপ্লব এবং এর পরিণতিকে সরাসরি ব্যঙ্গ করার উদ্দেশ্যকে ছাড়িয়ে গেছে অনেক দূর। বইটিতে উন্মোচিত হয়েছে তৎকালীন সোভিয়েত শাসনতন্ত্রের গুপ্তরহস্য। রুশ বা নাৎসি স্বেচ্ছাচারী শাসকগোষ্ঠী ছাড়াও পশ্চিম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অঙ্গনে তেমন সমাদৃত হয় নি এ বই। বইটি আসলে রাজনীতিতে এ ধরনের আক্রমণ করে বসে : বইটি দেখায়—যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা এবং লোক দেখানো ভালো কাজের মধ্যে অসৎ উদ্দেশ্য থাকে, যা পরিণতিতে ডেকে আনে সর্বনাশ। রাজনৈতিক দিক দিয়ে একধরনের হতাশাও ফুটিয়ে তুলেছে বইটি। ঘটনা সেভাবে হাস্যরস এবং ক্রীড়াকৌতুকের ভেতর দিয়ে এগিয়ে গেছে, উপসংহারে এসে সেই আমেজটা আর থাকে নি। মানুষ এবং তার কর্মকাণ্ড বিষয়ক গভীর হতাশার মাঝে কোমলতা ফুটিয়ে তুলতে পারে নি প্রবহমান আবহ। বইটির কাহিনী বিন্যাসে সরাসরি সহজভাবে ফুটে উঠেছে চিরাচরিত একটি রূপকথার আদল, যেখানে স্বচ্ছন্দে প্রকাশ পেয়েছে মানুষের দুঃখজনক বিপর্যয়, সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করেও শেষতক কলুষিত অশুভশক্তির জন্য কাঙিক্ষত ফল লাভে ব্যর্থ হওয়া। গল্পের শুরুতে ক্রীতদাস থাকে পশুরা, ওরা চেষ্টা করে নগ্ন, নিষ্পাপ এবং মুক্ত থাকার মতো একটা পরিবেশে ফিরে যেতে, কিন্তু ঘুরেফিরে আবার সেই ক্রীতদাসই হয়ে যায় সবাই—তখন ওদের অবস্থা আগের চেয়েও করুণ। পশুদের প্রতীকী ব্যঞ্জনার ভেতর দিয়ে মানব সমাজের এই অন্ধকার চিত্র এত উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে গল্পে, কৌতুকরস কোনোভাবেই ক্ষুন্ন করে নি মূল ভাবার্থকে, অরওয়েলও বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হন নি তার সচেতন লক্ষ্য থেকে। তার কাছে কৌতুক মানে ‘মানুষের বাগাড়ম্বর থামিয়ে দেওয়া । এবং এজন্যই মানুষকে তিনি উপস্থাপন করেছেন পশুর আদলে। তিনি বলেছেন, “আমাদের ব্যঙ্গচিত্র পশুদের মাঝে রয়েছে বলেই ওরা এত হাস্যকর। অরওয়েলের মতে, যে কোনো ধরনের রঙ্গকৌতুক, এমনকি নিখাদ ফ্যান্টাসিরও মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে দুম করে ভূতলে নামিয়ে আনা। অরওয়েল আরেকটি সুন্দর কথা বলেছেন, মানুষের মর্যাদাহানি করো না, তবে তাকে স্মরণ করিয়ে দাও ইতোমধ্যে তার মর্যাদাহানি ঘটেছে।’ সুইফট তার জগদ্বিখ্যাত বই ‘গালিভার্স ট্রাভেলস-এ ঘোড়াকে আদর্শের প্রতিভূ হিসেবে বেছে নিয়েছেন, কারণ ঘোড়াকে সবাই উপকারী প্রাণী হিসেবে জানে। অরয়েল তার গল্পের জন্য শুকূরদের নিয়েছেন সম্ভবত নীতিগত দিক বিবেচনা করে। মানুষের কাছে শূকরের মর্যাদা পশুদের ভেতর একদম নিচে। সুইফটের ঘোড়ার মতো অরয়েলের ঘোড়াগুলোও এসেছে নির্দোষ এবং দায়িত্বশীল ক্রীতদাস হিসেবে। অদ্ভুত কারণে শূকরদের মানুষ যেমন ঘৃণা করে, তেমনি একই কারণে মানুষ কোনো কোনো ক্ষেত্রে পছন্দ করে না নিজেদেরকেও। এজন্যই ‘অ্যানিমেল ফার্মা-এ শূকরেরা এসেছে মন্দ মানুষের প্রতিনিধি হয়ে। শারীরিক এবং নৈতিকভাবে মানুষের পাপপঙ্কের দুর্গন্ধ থেকে অরওয়েলের সভয়ে পিছিয়ে আসাটাই মূলত সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে এ বইটিতে।
Download

লজিক আর অ্যান্টি লজিকের দোলাচলের মধ্য দিয়ে এগোতে থাকা এক পিশাচ কাহিনী।
এক বিখ্যাত মার্কিন অভিনেত্রী ক্রিসের মেয়ে রেগান। বয়স এগারো। হঠাৎ করে তার মধ্যে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে লাগল। প্রথমদিকে যে এক কাল্পনিক চরিত্রের সাথে একা একা কথা বলত। কিছুদিন পর অস্বাভাবিকতার মাত্রা বাড়ল। মানসিকভাবে সে একাবারেই ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ল। তার ঘরেও যেন কিছু একটা আছে যেজন্য ঘর সবসময় শীতল হয়ে থাকে। রাতে ঘুমের মধ্যে তার খাট কাঁপে। ক্রিস তার মেয়েকে ডাক্তার দেখাল। ডাক্তারেরা রেগানের শারীরিক সবধরনের সম্ভাব্য রোগ বিশ্লেষণ করলেন। পাওয়া গেল না কিছুই। সাইক্রিয়াটিস্টের শরণাপন্ন হয়েও লাভ হল না কোন। ওদিকে ক্রিসের বাড়িতে এক সন্ধ্যায় খুন হয়ে গেল এক চলচ্চিত্র পরিচালক। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, মানসিক ভারসাম্যহীন রেগানের হাতেই খুনটা হয়েছে। কিন্তু রেগানের সমস্যাটা কি? শারীরিক বা মানসিক সমস্যা না থাকার মানে তো তার ওপর শয়তান আছর করেছে। শয়তানের হাত থেকে বাঁচতে তার দরকার এক্সরসিজম বা তার ওপর গুণ করা। এক নাস্তিক পাদ্রী কারাস যে কিনা একজন মনোবিদও, অস্বীকৃতি জানাল এক্সরসিজম করতে। সে নতুন করে বৈজ্ঞানিকভাবে বের করার চেষ্টা করতে লাগল রেগানের সমস্যার সমাধান। বিভিন্ন থিওরিও দাঁড় করাল। কিন্তু শেষ অব্দি কি রেগানের সমস্যাটাকে যুক্তি দিয়ে বিচার করা যাবে নাকি এক্সরসিজমই করতে হবে? শেষে রেগান আর কারাসের পরিণতিই বা হবে? কাহিনীর শেষে কি নতুন করে আবির্ভাব হবে কারো? এসবের উত্তর পাওয়া যাবে এক্সরসিজম উপন্যাসে।
এটি মূলত পিটার ব্লেটির পিশাচ কাহিনীর হুমায়ুন আহমেদ কর্তৃক ভাবানুবাদ। প্রথমেই বলতে হবে, অনুবাদটি হয়েছে সর্বোচ্চমানের। হুমায়ুন আহমেদ যদি সাহিত্যের এই শাখার সাথে নিয়মিতভাবে জড়িত থাকতেন, তবে এদেশের অনুবাদশিল্প যে এতদিনে অনেকদূর এগিয়ে যেত তা বলাই বাহুল্য। যাইহোক, এবার 'দি এক্সরসিস্ট' এর মূল কাহিনী নিয়ে কথা বলি। অনেকেই হুমায়ুন আহমেদের মিসির আলী বিষয়ক রচনাগুলোর সাথে মিল পাবেন এই উপন্যাসের। মূলত 'দি এক্সরসিস্ট' এর অনুবাদের অভিজ্ঞতাই কিন্তু হুমায়ুন আহমেদকে অনুপ্রাণিত করেছিল এইধরণের আদিভৌতিক বিষয়কে যুক্তিসঙ্গতভাবে মিসির আলী সিরিজের মাধ্যমে তুলে ধরতে। মিসির আলীর রচনায় যেমন লজিক আর অ্যান্টি লজিক বিশেষ জায়গা পেয়েছে, তেমন এই উপন্যাসেও কিন্তু লজিক আর অ্যান্টি লজিকের পরস্পর বিরোধিতা এবং এ বিষয়ে কারাস চরিত্রের মাধ্যমে সিদ্ধান্তহীনতার দোলাচল ফুটে উঠেছে। কারাস চরিত্রটি একেবারে মিসির আলীর মত করেই ভৌতিক বিষয়গুলোর বৈজ্ঞানিক ও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা প্রদানের চেষ্টা করেছে, যদিও কারাস চরিত্রের জন্ম আসলে মিসির আলীর আগেই। এ থেকেও পাঠক নিজেরা একটি সিদ্ধান্তে আসতে পারেন। সে ব্যাপারে আমি নতুন করে কিছু নাই বা বললাম। কিন্তু এ কথা অনস্বীকার্য যে, হুমায়ুন আহমেদ নিজে যেমন আকর্ষিত হয়েছিলেন নাস্তিক পাদ্রী কারাসের চরিত্রের ব্যাপারে, তেমন অন্য পাঠকেরাও এই চরিত্রটিকে পছন্দ করবে। পাশাপাশি পুলিশ ইনভেস্টিগেটর মিঃ কিণ্ডারম্যানের চরিত্রটিও বেশ মনোমুগ্ধকর। তবে সার্বিকভাবে 'দি এক্সরসিস্ট' এর ফিনিশিং নিয়ে আমি সন্তুষ্ট হতে পারি নাই। একটি যুক্তিবাদী ফিনিশিং আশা করছিলাম কিন্তু বাস্তবে দেখা মিলল তার সম্পূর্ণ বিপরীত ফলাফলের। তাই তো এই 'দি এক্সরসিস্ট' এর জনরা হিসেবে বেছে নিতে হচ্ছে 'ভৌতিক' বা 'আদিভৌতিক'।
Download
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
মিছিলের সব হাত
কন্ঠ
পা এক নয়।
সেখানে সংসারী থাকে,সংসার বিরাগী থাকে,
কেউ আসে রাজপথে সাজাতে সংসার।
এরিক মারিয়া রেমার্ক-এর ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’ উপন্যাসটি পড়তে যেয়ে বার বার মনের মাঝে ঘুরে ফিরে এসেছে কবি হেলাল হাফিজের ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতাখানি। কবির চোখে যুদ্ধ যেন রোমাঞ্চের এক প্রতিশব্দ! যৌবনের মহত্তর উজ্জ্বল প্রদর্শণী। কিন্তু একজন সৈনিকের কাছে যুদ্ধ একটা খেলা। এ খেলায় হার মানে মৃত্যু। জীবনের সমস্ত অনুভূতিগুলো এখানে মৃত, একটাই শুধু চিন্তা বেঁচে থাকতে হবে, অন্যকে মারতে হবে।
এরিক মারিয়া রেমার্ককে মাত্র আঠারো বছর বয়সে যোগ দিতে হয়েছিল জার্মান সেনাবাহিনীতে। জুন ১২, ১৯১৭ তে তাঁকে পাঠানো হয় ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টে, দু’নম্বর কোম্পানিতে। সেখানে তিনি বেশ কয়েকটি যুদ্ধে অংশ নেন। খুব কাছে থেকে দেখেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বীভৎসতা, ধ্বংসযজ্ঞ। গোলার বিস্ফোরণে বাম পা, ডান হাত আর ঘাড়ে মারাত্নক জখম হলে, তাঁকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় জার্মানির এক সামরিক হাসপাতালে। যুদ্ধের বাকিটা সময় তিনি সেখানেই ছিলেন।
এই উপন্যাসটি পড়তে পড়তে তাই বার বার মনে হয়েছে এটা কোন বানানো কাহিনী নয়। খুব কাছে থেকে দেখা কতগুলো ঘটনার বর্ণনা। সেই ঘটনাগুলো লেখক বলিয়ে নিচ্ছেন ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টের দু’নম্বর কোম্পানির উনিশ বছর বয়সী পল বোমারকে দিয়ে। এই পল বোমার আর কেউ নন, লেখক নিজেই।
Download

যুদ্ধ এবং ভালোবাসার এক করুন পরিণতি গল্পের মূল চরিত্র আর্নস্ট গ্রেবার । টানা দু বছর রাশিয়ান ফ্রন্টে যুদ্ধ করার পর তার তিন সপ্তাহের ছুটি মেলে । কিন্তু সেই ছুটিও পরে স্থগিত করা হয় , তারপরো গ্রেবার তার বাসায় এই কথাটা জানায় না ,কারন সে চাইছিলোনা কারো আশা ভঙ্গ হোক । অবশেষে একদিন গ্রেবারের ছুটি মেলে । ছুটিতে সে যখন তার শহরে ফিরে যায় , তখন দেখে তার শহর একটা ধ্বংস স্তূপে পরিণত হয়েছে , তার বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে । ছুটিতে গিয়ে পরিচিত হয় এক নারীর সাথে (নামটা ঠিক মনে নেই) , সেই মেয়েটির বাবাও আবার নাৎসি ক্যাম্পে বন্দী । মেয়েটিকে সাথে পেয়ে গ্রেবার আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে থাকে ,স্বপ্ন দেখে এক নতুন পৃথিবীর । কিন্তু যুদ্ধ তার স্বপ্নের এক বেদনাদায়ক ফল নিয়ে আসে।
Download
অনেক সাহিত্য সমালোচকের মতে যুদ্ধফেরত সৈনিকদের নিয়ে রচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস এটি। যুদ্ধ একজন সৈনিকদের কাছ থেকে প্রায় সবকিছুই কেড়ে নেয় । সমাজ তাদের বিচ্ছিন্ন করে দেয় । অথবা এই সমাজটাকেই তারা ঠিক আগের মত করে গ্রহণ করতে পারেনা । এই বইটি মূলত অল কোয়ায়েট অন দ্যা ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টের সিকুয়েল ।











