রবিবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৬
দ্য সি-হক
রাফায়েল সাবাতিনি/ইসমাইল আরমান
Download
বৃহস্পতিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৬

বুধবার, ৩০ মার্চ, ২০১৬
তারাস বুলবা- এর কাহিনী ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকের। তুরস্কের সুলতান দক্ষিণে সবসময়ই ইউক্রেনীয়দের সাথে শত্রুতা বাঁধিয়ে রাখত। তার ওপর এসে পড়ে আর এক অশান্তি। ১৫৬৯ খ্রিস্টাব্দে ইউক্রেন দখল করে পোলরা। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনীয় জনগণের মধ্যে জেগে ওঠে তীব্র প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ। ইউক্রেনীয় ভূমিদাসেরাই ছিল এইসব বিদ্রোহ ও প্রতিরোধের চালিকাশক্তি। প্রতিরোধকারী ইউক্রেনীয় ভূমিদাসদের মধ্যে কসাক-সম্প্রদায়ের জনসাধারণের অবদান ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। সেই কসাক-বীরত্বই বাঙময় হয়ে উঠেছে ‘তারাস বুলবা’ উপন্যাসে। তারাস বুলবা উপন্যাসের গভীর ভাববাণী, সত্যনিষ্ঠ রোমাঞ্চকর চরিত্রসমূহ ও ইউক্রেনীয় জীবনযাত্রার বর্ণনার চমৎকারিত্বের জন্য এই মহাকাব্যিক উপন্যাসটি কালের শরীরে স্থায়ী দাগ রেখে গিয়েছে। নিকোলাই গোগোলের ‘তারাস বুলবা’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৩৫ সালে। ‘তারাস বুলবা’ তিনি লিখতে শুরু করেন ১৮৩৩ সালে। ১৮৩৫ সালে তারাস বুলবা উপন্যাসের আমূল পরিমার্জন করেন।
ডাউনলোড
ডাক্তারের বলে দেওয়া প্রসবের দিনের দু’সপ্তাহ আগে এক চিটচিটে বিকেলে অসীমা গাঙ্গুলি তার সেন্ট্রাল স্কোয়ার অ্যাপার্টমেন্টের রান্নাঘরে দাড়িয়ে একটা বাটিতে রাইস ক্রিম্পি, প্ল্যান্টার্স বাদাম আর কুচোনো লাল পেয়াজ একসঙ্গে মাখছিল। তাতে নুন, লেবুর রস আর মিহি করে কাটা কাঁচালঙ্কা মেশাতেই একটু সরষের তেলের জন্য তার মনটা হাহাকার করে উঠল। গর্ভবতী থাকার পুরো সময়টা অসীমা এই মাখার উপর ভরসা করেই কাটিয়েছে। তবে কলকাতার ফুটপাথে আর ভারতের সব রেল স্টেশনে কয়েক নয়া পয়সায় কাগজের ঠোঙায় ভরে যে ঝালমুড়ি বিক্রি হয়, তার তুলনায় অসীমার ক্রিম্পি মাখাটা নেহাতই জোলো। এমনকী এখনও, বাচ্চাটা বাড়তে বাড়তে তার ভিতরে আর একটুও খালি জায়গা না থাকা সত্ত্বেও, এই একটা জিনিসের প্রতি তার আকর্ষণ কমেনি। একমুঠো তুলে নিয়ে একটু মুখে দেয় অসীমা, তারপর ভুরু কোচকায়। প্রত্যেকবারের মতো এবারও একটা কিছুর অভাব রয়ে গেছে। সে শূন্যদৃষ্টিতে রান্নাঘরের কাউন্টারের উপরে পেরেক থেকে ঝুলতে থাকা তেল চিটচিটে রান্নার বাসনগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে। শাড়ির আঁচল দিয়ে ঘাম মোছে। নকশাকাটা ধূসর লিনোলিয়ামের উপরে তার পা-দুটো টনটন করে ওঠে। তলপেটটা বাচ্চার ওজনে ভারী। সে একটা কাবার্ড খোলে। তাকগুলো হলুদ আর সাদা চেককাটা তেলতেলে কাগজে ঢাকা। কতদিন ভেবেছে কাগজটা পালটানো দরকার... । সে আর একটা পেয়াজ বের করে, উপরের ম্যাজেন্টা খোসাটা নখ দিয়ে টেনে তুলতে তুলতে সে আবার ভুরু কোঁচকায়। এক অদ্ভুত উষ্ণতা তার তলপেটে ছড়িয়ে পড়ছে, আর তার পরেই এমন একটা জোরালো টান যে সে নিচু হয়ে যেতে বাধ্য হয়, হা করে শ্বাস টানে। পেয়াজটা তার হাত থেকে ছিটকে মেঝেতে পড়ে যায়। যন্ত্রণার প্রথম প্রবাহ কেটে যায় বটে, তবে তার পরই আরও অস্বস্তিকর, আরও দীর্ঘস্থায়ী দ্বিতীয় প্রবাহ। বাথরুমে গিয়ে সে আবিষ্কার করে প্যান্টে খয়েরি রক্তের জমাট দাগ। তার স্বামী, এম আই টিতে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডক্টরাল ছাত্র অশোককে সে জোরে জোরে ডাকে। অশোক শোবার ঘরে পড়াশোনা করছে। পড়ার টেবিলটা আসলে একটা কার্ড টেবিল। লাল ও বেগুনি বাটিকের চাদর দিয়ে ঢাকা দুটো গদিই হল তাদের বিছানা, এখন সেটাই আবার অশোকের চেয়ার। অশোককে ডাকলেও অসীমা তার নাম নেয় না। সে কখনওই তার স্বামীর কথা ভাবার সময় তার নাম নিয়ে ভাবে না, যদিও সে ভাল করেই জানে নামটা কী। সে স্বামীর পদবি গ্রহণ করেছে বটে, কিন্তু সামাজিক নিয়মের খাতিরে সে কখনও স্বামীর নাম উচ্চারণ করে না। বাঙালি বউদের তা করতে নেই। হিন্দি সিনেমার চুমু বা আদরের মতো স্বামীর নামও খুব নিজস্ব, গহিন। এটা জোরে বলার কোনও প্রশ্নই নেই, কোনওভাবে এড়িয়ে যাওয়াই নিয়ম। তাই অশোকের নাম ধরে না ডেকে অসীমা শুধু বলে, “শুনছ?”
আজ অবধি তিনজন কবির বই বিক্রি হয়েছে সব চেয়ে বেশি। (১) উইলিয়াম শেক্সপীয়ার। (২) লাওৎ-সে। এবং (৩) খলিল জিব্রান। কবিতা ছাড়াও জিব্রানের গভীর দখল ছিল গদ্যে। ছিলেন মিসটিক চিত্রকর, পাথর ভাঙ্গার কলাকৌশল শেখার জন্য প্যারিসেও গিয়েছিলেন; লিখেছেন আরব সঙ্গীতের ওপর ডিসকোর্স। তবে “প্রফেট”-এর জন্যই বিশ্বময় জিব্রানের খ্যাতি। আজও। পথ দেখিয়েছেন আধুনিক আরবি ভাষায় রোমানটিক কবিতা লেখার। সহজ সরল ভাষায় লিখেছেন জিব্রান। ছিলেন খ্রিস্টান কাঠপাদরিদের বিরোধী। যে জন্য লেবানিজ গির্জের বিরাগভাজন হয়েছিলেন জীবদ্দশায়। জিব্রান প্রথমে নিজেকে মনে করতেন একজন সিরিয়-আরব, তারপরে খ্রিস্টান মারোনাইট। আমূল আধুনিকায়ণ চেয়েছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের- তবে তা অবশ্যই পশ্চিমের একপেষে অন্ধ অনুসরণ করে নয় । ব্যাক্তির মুক্তি, শ্রেণিশোষন এবং শাসনযন্ত্রের রুক্ষতার বিরুদ্ধে আমৃত্যু ছিলেন উচ্চকিত।
খলিল জিব্রান কেন আজও জনপ্রিয়?
একটি উদাহরণ দিলেই পরিস্কার হবে। প্রফেট গ্রন্থে জিব্রান লিখেছেন-
Your children are not your children.
They are the sons and daughters of Life's longing for itself.
They come through you but not from you,
And though they are with you yet they belong not to you.
(On Children)
কী অসাধারণ কথা।
জন লেনন এর লেখা বিটলস এর একটি গানের (জুলিয়া) প্রথম দুটি লাইন জিব্রানের ঢেউ ও ফেনা থেকে নেওয়া-
Half of what I say is meaningless
But I say it just to reach you ...![]()
বাংলাদেশের পাঠকদের কাছে খুশবন্ত সিং সুপরিচিত এবং লেখক হিসেবে অত্যন্ত সমাদৃত। তার লিখা পড়তে শুরু করলে আর থেমে থাকার উপায় থাকে না। পঞ্চাশ বছরের অধিক সময় ধরে তিনি একটানা লিখে যাচ্ছেন। লেখক, সাংবাদিক ও সম্পাদক হিসেবে তার দৃষ্টিভঙ্গি বরাবর প্ররোচনামূলক ও বিতর্কিত। কিন্তু লিখা গভীর চেতনায় সমৃদ্ধ এবং আবেদনপূর্ণ। সর্বোপরি খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও তিনি সততা থেকে বিচ্যুত হননি এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, পাঠকদের কখনো বঞ্চিত করেননি। তার আত্মজীবনী আসলে তার জীবন ও কাজের উপর লিখা একটি বিবরণ। ১৯১৫ সালে বিভাজন-পূর্ব পাঞ্জাবে জন্মগ্রহণকারী খুশবন্ত সিং আধুনিক ভারতের ইতিহাসের অধিকাংশ প্রধান ঘটনার প্রত্যক্ষদশী। উপমহাদেশের বিভক্তি ও স্বাধীনতা থেকে শুরু করে ভারতের জরুরি অবস্থা, স্বর্ণমন্দিরে উগ্র শিখদের বিরুদ্ধে পরিচালিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর অপারেশন ব্লু স্টার’ এবং তার পরিণতি দেখেছেন খুব কাছে থেকে। ইতিহাসের গতি পরিবর্তনকারী এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত বহু নেতার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল। তিনি জওহরলাল নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধীর মতো নেতা, সন্ত্রাসী জনাইল সিং ভিন্দ্রানওয়ালে, মেধাবী ও কেলেংকার সৃষ্টিকারী চিত্রশিল্পী অমৃতা শেরগিল এবং উপমহাদেশ বিভক্তির সময় কসাই এ পরিণত মানুষদের সম্পর্কে লিখেছেন তার কাছে কাংক্ষিত স্বচ্ছতা ও অকপটতায় । নিজের জীবন সম্পর্কেও খুশবন্ত সিং অবিচলিত স্পষ্টতায় লিখেছেন। আইনজীবী, সাংবাদিক, লেখক এবং পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে পেশাগত সাফল্য ও ব্যর্থতার কথা লিপিবদ্ধ করেছেন । ষাট বছরের বেশি সময়ের দাম্পত্য জীবনের আনন্দ ও হতাশার কথা বলেছেন। রাজনীতি ও সমাজ জীবনে প্রতিষ্ঠিত বহু ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে অজানা সত্য তুলে ধরায় সংশ্লিষ্টরা যে ক্ষুব্ধ হবেন তাতে কোন সন্দেহ নেই এবং এই ক্ষুব্ধতার শিকারে পরিণত হয়েছিল তার আত্মজীবনী টুথ লাভ এন্ড এ লিটল ম্যালিস। তা না হলে এটি প্রকাশিত হতো ১৯৯৬ সালের জানুয়ারি মাসে। ছয় বছর আগে লিখিত গ্রন্থটি আলোর মুখ দেখার ঠিক আগে এর একটি অংশ এক সাময়িকীতে প্রকাশ পাওয়ার পর ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পুত্রবধূ মানেক গান্ধী তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুন্ন হওয়ার অভিযোগ তুলে খুশবন্ত সিং ও তার প্রকাশকের বিরুদ্ধে মমলা করেন। মামলা চুড়ান্ত রায় ঘোষিত হয়ার পর গ্রন্থটি গত ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০০২ প্রকাশিত হয়।![]()
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০১৫
উইলিয়াম শেকসপিয়র (ইংরেজি: William Shakespeare উইলিয়াম্ শেইক্স্পিয়ার্) (ব্যাপ্টিজম ২৬ এপ্রিল, ১৫৬৪; মৃত্যু ২৩ এপ্রিল, ১৬১৬) ছিলেন একজন ইংরেজ কবি ও নাট্যকার। তাঁকে ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক এবং বিশ্বের একজন অগ্রণী নাট্যকার মনে করা হয়।[১] তাঁকে ইংল্যান্ডের "জাতীয় কবি" এবং "বার্ড অফ অ্যাভন" (অ্যাভনের চারণকবি) নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। তাঁর যে রচনাগুলি পাওয়া গিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ৩৮টি নাটক, ১৫৪টি সনেট, দুটি দীর্ঘ আখ্যানকবিতা এবং আরও কয়েকটি কবিতা। কয়েকটি লেখা শেকসপিয়র অন্যান্য লেখকদের সঙ্গে যৌথভাবেও লিখেছিলেন। তাঁর নাটক প্রতিটি প্রধান জীবিত ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং অপর যে কোনো নাট্যকারের রচনার তুলনায় অধিকবার মঞ্চস্থ হয়েছে। শেকসপিয়রের জন্ম ও বেড়ে ওঠা স্ট্যাটফোর্ড অন-অ্যাভনে। মাত্র আঠারো বছর বয়সে তিনি অ্যানি হ্যাথাওয়েকে বিবাহ করেন। অ্যানির গর্ভে শেকসপিয়রের তিনটি সন্তান হয়েছিল। এঁরা হলেন সুসান এবং হ্যামনেট ও জুডিথ নামে দুই যমজ। ১৫৮৫ থেকে ১৫৯২ সালের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি অভিনেতা ও নাট্যকার হিসেবে লন্ডনে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। লর্ড চেম্বারলেইন’স ম্যান নামে একটি নাট্যকোম্পানির তিনি ছিলেন সহ-সত্ত্বাধিকারী। এই কোম্পানিটিই পরবর্তীকালে কিং’স মেন নামে পরিচিত হয়। ১৬১৩ সালে তিনি নাট্যজগৎ থেকে সরে আসেন এবং স্ট্র্যাটফোর্ডে ফিরে যান। তিন বছর বাদে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। শেকসপিয়রের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে নথিভুক্ত তথ্য বিশেষ পাওয়া যায় না। তাঁর চেহারা, যৌনপ্রবৃত্তি, ধর্মবিশ্বাস, এমনকি তাঁর নামে প্রচলিত নাটকগুলি তাঁরই লেখা নাকি অন্যের রচনা তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে। শেকসপিয়রের পরিচিত রচনাগুলির অধিকাংশই মঞ্চস্থ হয়েছিল ১৫৮৯ থেকে ১৬১৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ে। তাঁর প্রথম দিকের রচনাগুলি ছিল মূলত মিলনান্তক ও ঐতিহাসিক নাটক। ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে তাঁর দক্ষতায় এই দুটি ধারা শিল্পসৌকর্য ও আভিজাত্যের মধ্যগগনে উঠেছিল। এরপর ১৬০৮ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানত কয়েকটি বিয়োগান্ত নাটক রচনা করেন। এই ধারায় রচিত তাঁর হ্যামলেট, কিং লিয়ার ও ম্যাকবেথ ইংরেজি ভাষার কয়েকটি শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি। জীবনের শেষ পর্বে তিনি ট্র্যাজিকমেডি রচনায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন। এই রচনাগুলি রোম্যান্স নামেও পরিচিত। এই সময় অন্যান্য নাট্যকারদের সঙ্গে যৌথভাবেও কয়েকটি নাটকে কাজ করেন তিনি। তাঁর জীবদ্দশায় প্রকাশিত নাটকগুলির প্রকাশনার মান ও প্রামাণ্যতা সর্বত্র সমান ছিল না। ১৬২৩ সালে তাঁর দুই প্রাক্তন নাট্যসহকর্মী দুটি নাটক বাদে শেকসপিয়রের সমগ্র নাট্যসাহিত্যের ফার্স্ট ফোলিও প্রকাশ করেন। তাঁর সমকালে শেকসপিয়র ছিলেন একজন সম্মানিত কবি ও নাট্যকার। কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁর খ্যাতি হ্রাস পেয়েছিল। অবশেষে ঊনবিংশ শতাব্দীতে খ্যাতির শীর্ষে ওঠেন। রোম্যান্টিকেরা তাঁর রচনার গুণগ্রাহী ছিলেন। ভিক্টোরিয়ানরা রীতিমতো তাঁকে পূজা করতেন; জর্জ বার্নার্ড শ’র ভাষায় যা ছিল চারণপূজা ("bardolatry")। বিংশ শতাব্দীতেও গবেষণা ও নাট্য উপস্থাপনার বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর রচনাকে পুনরাবিষ্কার করার চেষ্টা করা হয়। আজও তাঁর নাটক অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বহুচর্চিত। সারা বিশ্বের নানা স্থানের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নানা আঙ্গিকে এই নাটকগুলি মঞ্চস্থ ও ব্যাখ্যাত হয়ে থাকে।
মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০১৫
আজ রাতে সে নিজের নরম বিছানায় নেই। মাথার তলে তার বালিশ নেই। থাকার প্রশ্নও নেই। সে দাঁড়িয়ে আছে। রুই দাঁড়িয়ে আছে একটা বর্গাকৃতি ঘরে। ৯ ফুট X ৯ ফুট। উচ্চতা প্রায় ১২ ফুট। ইটে তৈরি, ঢালাই ছাদ, পলেস্তরা লাগানো চুনকাম করা দেয়াল ও ছাদ। ফ্যান ঝোলাবার আঙটাটা কাটা। ঘরটার এক কোণে একটা দরজা দিয়ে যাওয়া যায় একটি ছোট্ট ঘরে। ৩ ফুট X ৩ ফুট। প্রকৃতির ডাকে মানুষ সেখানে যেতে পারে। ঘুটঘুটে অন্ধকার সেটা, বাল্ব নেই। সামনে গরাদ। প্রায় ৩ ফুট চওড়া। এক পাল্লা দরজার মতো গরাদটা খোলা বা বন্ধ করা যায়। এটাই ঘরটিতে ঢুকবার বা বেরুবার একমাত্র পথ। এখন বাইরে থেকে তালা লাগানো। বাইরে একজন সান্ত্রি দণ্ডায়মান। চিকচাক রুই এই ঘরটিতে আটক।
শনিবার, ২০ জুন, ২০১৫
বিশ্বসাহিত্যের দরবারে গ্রেজিয়া দেলেদ্দার নাম অতি পরিচিত। ইতালির এই বিখ্যাত লেখিকা ১৯২৬ সালে মূলত এই লা মাদ্রে বইটির উতকর্ষের বিচারে নোবেল পুরষ্কার পান। লা মাদ্রের কাহিনী গড়ে উঠেছে এক যাজক ও তার মাকে নিয়ে। অপরিসীম কষ্ট স্বীকার করে মা তার ছেলে পলকে বড় করেছেন। বড় হয়ে পল যাজকত্ব গ্রহন করে। এ অতি কঠিন দায়িত্ব। মায়ের মনে সদাই ভয় পল তার কর্তব্যের সীমা পেরিয়ে পাপের পথে যেন পা না বাড়ায়। কিন্তু সুন্দরী এজনিসের সঙ্গে দেখা হয় পলের। একদিকে কর্তব্য অন্যদিকে প্রেমের আকুতির মধ্য দিয়ে গল্প বেড়ে ওঠে। এবং শেষ হয় একটি করুণ মৃত্যুতে। সে মৃত্যু পলের মায়ের। গ্রেজিয়া দেলেদ্দা মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে অসাধারণ। গোটা কাহিনীর কেন্দ্রে রয়েছে মা। অন্যান্য চরিত্রগুলিকে সমান সহানুভূতির সঙ্গে ঔপন্যাসিক নির্মাণ করেছেন। জীবনের দ্বিধা সংশয় ও আকাংক্ষাগুলিকে চমতকারভাবে ধরতে পেরেছেন বলেই এই বই এতোখানি আদৃত।
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০১৫

সিদ্ধার্থ নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান লেখক হেরমান হেস এর লেখা অন্যতম জনপ্রিয় একটি উপন্যাস। গৌতম বুদ্ধের সময়ে ব্রাক্ষণ পরিবারে জন্মগ্রহনকারী "সিদ্ধার্থ" নামে এক যুবকের আধ্যাত্বিক অভিযাত্রা এবং দর্শন এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
হেরমান হেস এর এই নবম উপন্যাসটি লেখা হয়েছিল জার্মান ভাষায় , খুব সরল অথচ মাধুর্যপূর্ণ ছন্দে । হেরমান হেস ১৯১০ সালে ভারতে কিছুদিন কাটানোর পর, বইটি সর্বপ্রথম প্রকাশ পায় ১৯১২ সালে । বইটি যুক্তরাষ্ট্রে সর্বপ্রথম প্রকাশ পায় ১৯৫২ সালে এবং ৬০ এর দশকে বেশ প্রভাব বিস্তার করে। হেস বইটি উৎসর্গ করেন প্রিয় বন্ধু এবং নবেল পুরস্কার বিজয়ী ফরাসি নাট্যকার রোমেইন রোনাল্ড কে।
বাংলাদেশে বইটি সর্বপ্রথম প্রকাশ করে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র, ২০০২ সালে । বইটি অনুবাদ করেন জাফর আলম এবং সম্পাদনা করেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
সিদ্ধার্থ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত সমাস, সিদ্ধ (অর্জন) + অর্থ ( সম্পদ/ জ্ঞান ) = সিদ্ধার্থ (অর্জিত জ্ঞান)। অর্থ্যৎ কোন যাত্রী ( অনুষন্ধিৎসু ব্যক্তি বিশেষ) যিনি তার মোক্ষম লক্ষ্যে পৌছুতে সক্ষম হন। বুদ্ধত্ব লাভের পূর্বে গৌতম বুদ্ধের নাম ছিল রাজপূত্র "সিদ্ধার্থ "গৌতম। তবে এই উপন্যাসের সিদ্ধার্থ এবং গৌতম বুদ্ধ দু'জন ভিন্ন মানুষ।
সিদ্ধার্থ গ্রন্থ সম্পর্কে মার্কিন লেখক হেনরি মিলার বলেছেন : "সাধারণভাবে পরিজ্ঞাত বুদ্ধকে অতিক্রম করে এখানে নতুন এক বুদ্ধ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এ সাফল্য অভাবিতপূর্ব।"
গল্পের পটভূমি গৌতম বুদ্ধ - এর সময়কার প্রাচীন ভারত। ( পঞ্চম - দশম শতাব্দির মধ্যবর্তি সময়ে )গল্পের শুরু হয় ব্রাম্মণপূত্র সিদ্ধার্থ কে দিয়ে যে তার বাল্যবন্ধু এবং ছায়াসঙ্গী গোবিন্দ কে নিয়ে গৃহত্যাগ করে। তারা দুজন অন্তরাত্মার আলোর সন্ধানে যাত্রা শুরু করে। সিদ্ধার্থ বিভিন্ন ঘটনা এবং জীবনের ঘাত প্রতিঘাতের চেতনায় এক পর্যায়ে তার লক্ষ্যে পৌছুবার উপক্রম হয়। চেতনা হল মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া বিভন্ন ঘটনার অভিজ্ঞতার প্রতিফলন - যা কিনা মানুষের উপলব্ধি, শিক্ষা এমনকি জ্ঞানও বটে। উপলব্ধি আসে আত্মসিদ্ধি এবং অন্ত:করণ থেকে। হেসের সিদ্ধার্থ উপন্যাসটিতে মানুষের জীবনে লব্ধ অভিজ্ঞতাকে দেখানো হয়েছে সত্যকে জানার এবং আলোকিত হওয়ার সর্বোৎকৃষ্ট পথ হিসেবে। হেসের সৃষ্ট চরিত্র সিদ্ধার্থ দেখায় যে প্রকৃত জ্ঞান বিদ্যা, ধ্যান কিংবা পার্থিব সুখ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করে কন্টক আসনে শায়ন করলেই পাওয়া যায় না, বরং তা আসে জীবনের মুখোমুখি হয়ে সংসার থেকে অভিজ্ঞাত উপলব্ধি দিয়ে।
সুতরাং, বিছিন্ন কিছু ঘটনা দিয়ে জীবনকে আসলে বিচার করা অর্থহীন - সিদ্ধার্থ উপোষ করে কিংবা প্রেম এবং বানিজ্যের নেশায় নিমগ্ন হয়ে কোনও ভাবেই নির্বাণ লাভ করতে পারে না। যদিও এগুলোর কোনটিই নির্বান লাভের পথে বাধা হয়ে দাড়ায়নি বরং জীবনে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনাই সিদ্ধার্থ'র আত্মপলোদ্ধিতে কোনও না কোন ভাবে কাজে এসেছে। ঘটে যাওয়া এই সব ঘটনাগুলোই অভিজ্ঞতার ভান্ডারে যুক্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০১৫
যুক্তিবাদ ও প্রযুক্তি প্রভাবিত আমাদের বর্তমান সময়টি সেক্যুলার হওয়ার কথা, কিন্তু বিশ্বের প্রতিটি প্রাধান ধর্মের ক্ষেত্রে মৌলবাদ শক্তি প্রবল হয়ে উঠেছে। কেন? সুবিখ্যাত লেখক ক্যারেন আর্মস্ট্রং এই বিহ্বলকারী ও বিব্রতকর প্রশ্নের জবাব খোঁজার প্রায়াস পেয়েছেন তাঁর অসাধারণ গ্রন্থ স্রষ্টার জন্য লড়াই (দ্য ব্যাটল ফর গড)-এ। যেমনটি সাধারণভাবে মনে করা হয়, মৌলবাদ ধর্মের প্রাচীন ধরনের পুনরাবির্ভাব নয় বরং আধুনিক বিশ্বের আধ্যাত্মিক টানাপোড়েনের প্রতি সাড়া বিশেষ। আর্মস্ট্রং যুক্তি দেখিয়েছেন যে, আলোকনপর্বে কিংবদন্তী ও বিশ্বাসে প্রেথিত ধর্মানুরাগের বিনাশ ঘটায় মানুষ ধার্মিকতার নতুন উপায় সন্ধানে বাধ্য হয়েছে- ফলে মৌলবাদের আবির্ভাব। এ গ্রন্থে আর্মস্ট্রং তিনটি মৌলবাদী আন্দোলনের উপর আলোকপাত করেছেন; আমেরিকায় প্রটেস্ট্যান্ট মৌলবাদ, ইসরায়েলের ইহুদি মৌলবাদ এবং মিশর ও ইরানের ইসলামি মৌলবাদ-আধুনিকতার আক্রমণ প্রতিহত করার লক্ষে প্রতটি আন্দোলন কীভাবে নিজস্ব কৌশল গড়ে তুলেছে তার অনুসন্ধান করেছেন। ইতিহাস, সমাজ-বিজ্ঞান এবং আধ্যাত্মিকতাকে মিশিয়ে মানবজাতির আধ্যাত্মিক দিকের গভীর উপলব্ধির আলোক ক্যারেন আর্মস্ট্রং ধর্মীয় আভিব্যক্তির চরম রূপটির আকর্ষণীয় ও নিবিড় বর্ণনা দিয়েছেন, যে অভিব্যক্তিটি বিশ্বের ইতিহাসের গতি স্থির করে দিচ্ছে।










