মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০১৫

বাংলা কথাসাহিত্যের ইতিহাসে লেখকের সংখ্যা শত শত। কিন্তু শিল্পী? কর গোনা। জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী সেই বিরলতমদের একজন। শুধুমাত্র ঘাস, ফুল, ফড়িং কি ভাঙাচোরা মানুষ নিয়ে একের পর এক কাব্যসুষমামন্ডিত চারুকলাসম গল্প বুনে গেছেন বলেই নয়; কালের অবশ্যসম্ভাবী সমাজচিত্রের ‘দ্রষ্টা’ হিসেবেও তিনি অনন্য, একক। মীরার স্বামী হীরেন অসুস্থ। প্রায় অথর্ব হয়ে বাড়িতেই বসে আছে। কিন্তু সংসারও তো চালাতে হবে। তাই মীরা তার পুরুষ বন্ধুদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাত্ করতে থাকে। তাদের কাছ থেকে টাকা ধার করে কোনও রকমে চালাতে থাকে থমকানো সংসার। শেষে, মীরার অন্য পুরুষ-এর সংসর্গ সহ্য করতে না পেরে হীরেন গলায় ক্ষুর চালিয়ে আত্মহত্যা করে। উপন্যাস এখানে শেষ হতেই পারত! কিন্তু না, এর পর পাঠক দেখে, মীরা বিন্দুমাত্র হা-হুতাশ করে না। ঠান্ডা মাথায় সে হীরেনের ডাক্তারি প্রেসক্রিপশনগুলো খোঁজে। যাতে পুলিশের কাছে প্রমাণ দেওয়া যায়— রোগযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতেই হীরেন আত্মহত্যা করেছে। মীরাই সম্ভবত বাংলা উপন্যাসের প্রথম ‘অ্যান্টি হিরোইন’। ১৯৫৩ সালে লেখা এই উপন্যাস ‘মীরার দুপুর’। যিনি লিখেছিলেন কেউ তাঁকে বলেন ‘সুন্দরের কারিগর’, কেউ বলেন, ‘শব্দের জাদুকর’— তিনি বাংলা সাহিত্যের এক সাম্রাজ্যের অধীশ্বর— ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী। আশাকরি তার এই গল্প ও উনন্যাসগুলি আপনাদের ভালো লাগবে।
উপন্যাসঃ
সূর্যমুখী
মীরার দুপুর
গ্রীষ্ম বাসর
নিশ্চিন্তপুরের মানুষ
হৃদয়ের রং
প্রেমের চেয়ে বড়
সর্পিল তিন পরী
ছয় প্রেমিক
নীল রাত্রি
বনানীর প্রেম
ছোট গল্প
খেলনা,
শালিক কি চড়ুই,
চন্দ্রমল্লিকা,
চার ইয়ার,
গিরগিটি,
বনানীর প্রেম,
মহিয়সী,
খালপোল ও টিনের ঘরের চিত্রকর,
বন্ধুপত্নী,
নদী ও নারী,
পাশের ফ্ল্যাটের মেয়েটা,
দিনের গল্প রাত্রির গান,
জয়জয়ন্তী,
সমুদ্র,
তারিণীর বাড়িবদল,
ছিদ্র, ক্ষুধা,
বুনোওল,
আজ কোথায় যাবেন,
আম কাঁঠালের ছুটি,
ভাত, ট্যাক্সিওয়ালা,
গাছ, চোর,
পার্বতীপুরের বিকেল,
ছুটকি বুটকি,
বনের রাজা ও আরো অনেক।
ডাউনলোড করুন

তিরিশের দশকের অন্যতম আধুনিক কবি। জীবনানন্দের মৃত্যুর পর, তাঁর বেশ কিছু সাহিত্য পত্রিকায় তাঁর ছবির প্রয়োজন হয়। সে সময়ে ছবি খুঁজতে গিয়েই আবিষ্কৃত হয় চারটি ট্রাঙ্ক, যা ছিল গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধের পা-ুলিপিতে পরিপূর্ণ। তাঁর রচিত গল্প-উপন্যাস পরবর্তী সময়ে চার খ-ের সমগ্র হিসেবে প্রকাশিত হয়। ফলে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়, কেন তিনি এসব সাহিত্যকর্ম প্রকাশ করলেন না। যতদূর জানা যায়, কবি জীবনানন্দ যে নব্য ধারায় কাব্য রচনা করেছেন তা তৎকালীন সময়ে যথেষ্ট সমালোচিত ছিল। জীবনানন্দ দাশ মানুষের অন্তর্গত বেদনা, হতাশা, ব্যর্থতা, নৈঃসঙ্গবোধকে এক বিমূর্ত কল্পলোকে অনুভব করেছেন এবং চিত্রকল্পের মাধ্যমে তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। নাগরিক জীবনে একাকী মানুষের ব্যর্থতায় মূল সংকট প্রতিভাত করেছেন। এর মূলে তিনি যৌনতাকে উল্লেখ করেছেন। যার ফলে ব্যক্তিজীবনে বারংবার হোঁচট খেয়েছেন। এমনিতেই তিনি ছিলেন অন্তমুখী। তাঁর ওপর তৎকালীন সাহিত্যিকদের তীব্র কটাক্ষের বিপরীতে নিশ্চুপ থেকেছেন জীবনানন্দ দাশ। চাকরিতে, শিক্ষকতায় এমনিতেই মন বসাতে পারতেন না। তার ওপর কবিতার অশ্লীলতার দায়ে চাকরিচ্যুত হওয়া। প্রায়ই বেকার থাকার কারণে ব্যক্তিজীবনে দাম্পত্যজীবনে জীবনানন্দ অসুখীই ছিলেন। শিল্পের সঙ্গে আপস করতে না চাইলেও অবস্থার চাপে পড়ে কখনো দিশেহারা হয়েছেন। গল্প-উপন্যাসে তিনি যে বার্তা দিতে চেয়েছেন তা হলো মানুষের জীবনে মূল্যবান হলো টাকা। মানুষের মন নামক স্বত্ব সেখানে বিক্রীত। টাকাই মানুষের সত্যকে নিয়ন্ত্রণ করে। সব মানুষ ভালো থাকতে চায়। এর উৎস টাকা। কেবলই টাকা। কিন্তু জীবানন্দ দাশ এ জীবনে সুখ পাননি। তাই মানুষের পৈশাচিক ব্যবহার, অবহেলাকে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। আধুনিক নাগরিক জীবনের প্রচলিত ধ্যান-ধারণা অযথাই লক্ষ্যহীন জীবনকে বয়ে চলার আনন্দে তিনি আনন্দিত হতে পারেননি। না ছিল তার বহুরূপী মুখোশ, না ছিল টাকা। তাই সমাজে তার অবস্থান ছিল হতাশাগ্রস্ত, কাপুরুষ, নির্জনতম ব্যক্তি। প্রকৃত পক্ষে কেউই তার ভেতরকার সত্তাকে শৃঙ্খলমুক্ত করতে পারেননি। জীবনানন্দ দাশ গদ্যরচনায় হাত দেন কাব্য রচনাকালের বছর পাঁচেকের মধ্যে। তা ১৯৩২-৩৩ সালের দিকে। জীবনানন্দের উপন্যাসে সংঘাত আছে, গভীর জীবনদৃষ্টি আছে। এ সংঘাত সমাজের সঙ্গে নয়, ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির নিজের অস্তিত্বের সংঘাত। তাই মাল্যবান, উৎপলা, হেম, কল্যাণী সবার বেদনাই পৃথক, অস্তিত্বের সংকটও ভিন্ন। তাদের একাকিত্ব, বেদনার গভীরতা প্রকাশ করতে গিয়ে জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ অংশ উহ্য রয়ে গেছে। প্রায়ই জীবনানন্দের উপন্যাসের নায়কেরা বিবাহিত, এক সন্তানের পিতা। কিন্তু এ সন্তানেরা উপন্যাসে উপেক্ষিত। দৈনন্দিন জীবন, নারী-পুরুষের কর্মময় জীবনের ছবি, আবেগী-সংসারী মনোভাব এখানে অনুপস্থিত। এ যেন কেবল থাকার জন্যই থাকা। তাঁর সৃষ্ট নায়কেরা আরামে থাকতে চায়, স্ত্রীসঙ্গ চায়। কিন্তু তারা উদ্যমী নয়। প্রতি উপন্যাসেই লেপের উষ্ণতার আড়ালে জীবনের গভীরতর স্বাদের প্রসঙ্গ এসেছে। সংকটের মূলে দারিদ্য। এর ফলেই মাল্যবান-উৎপলা, হেম-কল্যাণী, স্বামী-স্ত্রী হয়েও সর্বদাই বিপরীত মেরুতে অবস্থান করেছে। স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কের মূলে আর্থিক সঙ্গতিকেই গুরুত্ব দেন তিনি। তাই জীবনসায়াহ্নে এসেও উৎপলার সচ্ছল মেজদা-বৌঠান সুখী। অন্যান্য উপন্যাসেও এই প্রবণতা স্পষ্ট। এ ধারা থেকে কিছুটা বের হয়ে আসেন ‘সুতীর্থ’ উপন্যাসে। সুতীর্থ মাল্যবান বা হেমের মতো নয়। সে ভাগ্য পরিবর্তনে সচেষ্ট। তারপরও মানুষের অন্তর্গত বেদনাকে তিনি একইভাবে অনুভব করেছেন। সুতীর্থকে তিনি প্রাণশক্তি দিয়েছেন; কিন্তু বৈরীবিশ্বেও নোংরা বোধের চক্রে তা নিয়ত দ্বিধাগ্রস্ত।‘জলপাইহাটি’ সেদিক থেকে কিছুটা প্রতিবাদী। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র নিশীথ সেন, মধ্যবিত্ত। স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে জলপাইহাটি গ্রামে বাস করে। স্ত্রী সুমনা রোগাক্রান্ত। জীবিকার তাগিদে নিশীথ সেন শহরে আসে। মফস্বলের গ-ির বাইরে জীবনকে খোলা চোখে দেখতে গিয়ে, সমাজের, রাষ্ট্রের বড় ফাঁকি চোখে পড়ে তাঁর। জীবনকে, দাম্পত্য জীবনকে তিনি এক উৎকট রূপে প্রত্যক্ষ করেছেন। কখনো মনে হয়েছে হয়তো প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিজীবন এমনই আবার পরক্ষণেই এ নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়েছেন। যে সংকট নিজে অনুভব করেছেন সেটা এতটা খোলামেলা প্রকাশিত হোক তা হয়তো চাননি জীবনানন্দ দাশ। বর্তমান সময়ে এ উপন্যাসগুলো পাঠে কখনোই শিল্পমান বর্জিত গদ্যসম্ভার বলে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। এখানে জীবনের গভীরতা আছে। আধুনিক মানুষের অস্তিত্বের সংকট আছে। অনেকে বলতে পারেন, সংকট থেকে উত্তরণের পথ জীবনানন্দ দেখাতে পারেননি। তাদের বলতে চাই জীবনানন্দ মানুষের বোধকে জাগ্রত করতে চেয়েছেন। জাগ্রত ব্যক্তি মাত্রই আপন কর্তব্য অনুভব করতে পারবেন। যদি পারা যায় তবে কথাশিল্পী জীবনানন্দের সার্থকতা। (ফারহানা সুলতানা)
শনিবার, ২৭ জুন, ২০১৫
ছেলেটার মা-বাবা নেই। একা থাকে একটা বাড়িতে। সঙ্গী বলতে স্নোয়ি নামের একটা কুকুর আর দুই বন্ধু ক্যাপ্টেন হ্যাডক ও প্রফেসর ক্যালকুলাস। আর বয়স? কেউ বলে ১৪-১৫, কেউ ১৭। বাড়ি? প্রথম দিকে জানতাম, ও বেলজিয়াম থেকে এসেছে। কিন্তু ও নিজে তো বলতেই চায় না বাড়ির কথা। অত সময়ই নেই। অতটুকুন ছেলে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াতেই বেশি ব্যস্ত। অ্যাডভেঞ্চার ছাড়া থাকতেই পারে না। একমাত্র কাজ হলো সাংবাদিকদের মতো খবর খুঁজে বের করা। রহস্যের কিনারা করতেই সময় পার করে বেশি। এর ওপর আবার পারে না এমন কোনো কাজই নেই। মোটরসাইকেল, গাড়ি, এমনকি বিমান-হেলিকপ্টারও চালায়! কাউকে ডরায় না। মন্দ লোকের খপ্পরে পড়লে মারামারি করতেও ছাড়ে না। ওহহো, ছেলেটার নামই তো বলা হয়নি। বাড়ির ঠিকানা না থাকুক, তার একটা নাম কিন্তু আছে। টিনটিন। পাক্কা ৮২ বছর ছেলেটা দৌড়ে বেড়িয়েছে কমিকের পাতায়। সেই ১৯২৯ সাল থেকে! একফোঁটা বড় হয়নি কিন্তু! এখনো একেবারে ছটফটে কিশোর।
নিচ থেকে ডাউনলোড করুন কালজয়ী টিনটিনের কমিক্সগুলো......
- টিনটিনের প্রথম অভিযান (১৯৩০)
- সোভিয়েত দেশে টিনটিন
- কঙ্গোয় টিনটিন
- আমেরিকায় টিনটিন
- ফারাওয়ের চুরুট
- নীলকমল
- কানভাঙা মূর্তি
- কৃষ্ণদ্বীপের রহস্য
- ওটোকারের রাজদণ্ড
- কাঁকড়া রহস্য
- আশ্চর্য উল্কা
- বোম্বেটে জাহাজ
- লাল বোম্বেটের গুপ্তধন
- মমির অভিশাপ
- সূর্যদেবের বন্দী
- কালো সোনার দেশে
- চন্দ্রলোকে অভিযান
- চাঁদে টিনটিন
- ক্যালকুলাসের কান্ড
- লোহিত সাগরের হাঙর
- তিব্বতে টিনটিন
- পান্না কোথায়
- ফ্লাইট ৭১৪
- বিপ্লবীদের দঙ্গলে
- ভীনগ্রহের আগন্তুক
- হাঙর হ্রদের বিভীষিকা
- বর্ণশিল্প রহস্য
- যাদু হ্রদের দৈত্য
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০১৫

ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত। ওড়িশার দেশীয় রাজ্য ঢেংকানালের এক শাক্ত পরিবারে অন্নদাশঙ্কর রায়ের জন্ম। তাঁর পিতা নিমাইচরণ রায় ও মা হেমনলিনী। তাঁর পূর্বপুরুষের আদি নিবাস ছিল পশ্চিম বঙ্গের হুগলি জেলার কোতরং গ্রামে। কর্মসূত্রে তাঁরা ওড়িশার ঢেংকানালে বসবাস শুরু করেন।
জমিদার হিসেবে অন্নদাশঙ্করের পূর্বপুরুষেরা ছিলেন প্রজাহিতৈষী, মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী। তাঁদের পরিবারে সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা হতো। পিতামহ শ্রীনাথ রায়, পিতা নিমাইচরণ রায় ও কাকা হরিশচন্দ্র রায়— এঁরা সবাই ছিলেন সাহিত্যরসিক এবং শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক। এক বন্ধুর সঙ্গে মিলে নিমাইচরণ “শ্রী চৈতন্যচরিতামৃত” অনুবাদ করেন ওড়িয়া ভাষঅয়। হেমনলিনী ছিলেন বৈষ্ণব ভাবাদর্শে বিশ্বাসী এবং কটকের বিখ্যাত পালিত পরিবারের সন্তান। প্রাচ্য-পাশ্চাত্য সংস্কৃতির মিশ্র পরিবেশে কেটেছে অন্নদাশঙ্করের শৈশব।
অন্নদাশঙ্করের সাহিত্যসৃষ্টি বৈচিত্র্যপূর্ণ। কেবল আঙ্গিকে নয়, ভাববৈচিত্র্যেও তাঁর রচনা কালোত্তীর্ণ। বহুমুখী ভাবানুভূতি তাঁর রচনার বিশেষত্ব। বিষয়বৈচিত্র্যে তাঁর রচনা সমৃদ্ধ। ইতিহাস, সাহিত্যতত্ত্ব, দর্শন, সমাজ-সংস্কৃতি, রাজনীতি, সমকালীন বিশ্বের ঘটনাপ্রবাহ তাঁর গদ্যের বিষয়। প্রবন্ধসাহিত্যে অন্নদাশঙ্কর ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথের সার্থক উত্তরসূরি। তবে রবীন্দ্রযুগের লেখক হলেও তাঁর স্টাইল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি ছিলেন মুক্তচিন্তা, আদর্শবাদ ও শুভবুদ্ধির প্রতীক। দেশভাগ, দাঙ্গা ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাঁর লেখনী ছিল আজীবন সোচ্চার।
উইলিয়াম শেকসপিয়র (ইংরেজি: William Shakespeare উইলিয়াম্ শেইক্স্পিয়ার্) (ব্যাপ্টিজম ২৬ এপ্রিল, ১৫৬৪; মৃত্যু ২৩ এপ্রিল, ১৬১৬) ছিলেন একজন ইংরেজ কবি ও নাট্যকার। তাঁকে ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক এবং বিশ্বের একজন অগ্রণী নাট্যকার মনে করা হয়।[১] তাঁকে ইংল্যান্ডের "জাতীয় কবি" এবং "বার্ড অফ অ্যাভন" (অ্যাভনের চারণকবি) নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। তাঁর যে রচনাগুলি পাওয়া গিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ৩৮টি নাটক, ১৫৪টি সনেট, দুটি দীর্ঘ আখ্যানকবিতা এবং আরও কয়েকটি কবিতা। কয়েকটি লেখা শেকসপিয়র অন্যান্য লেখকদের সঙ্গে যৌথভাবেও লিখেছিলেন। তাঁর নাটক প্রতিটি প্রধান জীবিত ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং অপর যে কোনো নাট্যকারের রচনার তুলনায় অধিকবার মঞ্চস্থ হয়েছে। শেকসপিয়রের জন্ম ও বেড়ে ওঠা স্ট্যাটফোর্ড অন-অ্যাভনে। মাত্র আঠারো বছর বয়সে তিনি অ্যানি হ্যাথাওয়েকে বিবাহ করেন। অ্যানির গর্ভে শেকসপিয়রের তিনটি সন্তান হয়েছিল। এঁরা হলেন সুসান এবং হ্যামনেট ও জুডিথ নামে দুই যমজ। ১৫৮৫ থেকে ১৫৯২ সালের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি অভিনেতা ও নাট্যকার হিসেবে লন্ডনে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। লর্ড চেম্বারলেইন’স ম্যান নামে একটি নাট্যকোম্পানির তিনি ছিলেন সহ-সত্ত্বাধিকারী। এই কোম্পানিটিই পরবর্তীকালে কিং’স মেন নামে পরিচিত হয়। ১৬১৩ সালে তিনি নাট্যজগৎ থেকে সরে আসেন এবং স্ট্র্যাটফোর্ডে ফিরে যান। তিন বছর বাদে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। শেকসপিয়রের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে নথিভুক্ত তথ্য বিশেষ পাওয়া যায় না। তাঁর চেহারা, যৌনপ্রবৃত্তি, ধর্মবিশ্বাস, এমনকি তাঁর নামে প্রচলিত নাটকগুলি তাঁরই লেখা নাকি অন্যের রচনা তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে। শেকসপিয়রের পরিচিত রচনাগুলির অধিকাংশই মঞ্চস্থ হয়েছিল ১৫৮৯ থেকে ১৬১৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ে। তাঁর প্রথম দিকের রচনাগুলি ছিল মূলত মিলনান্তক ও ঐতিহাসিক নাটক। ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে তাঁর দক্ষতায় এই দুটি ধারা শিল্পসৌকর্য ও আভিজাত্যের মধ্যগগনে উঠেছিল। এরপর ১৬০৮ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানত কয়েকটি বিয়োগান্ত নাটক রচনা করেন। এই ধারায় রচিত তাঁর হ্যামলেট, কিং লিয়ার ও ম্যাকবেথ ইংরেজি ভাষার কয়েকটি শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি। জীবনের শেষ পর্বে তিনি ট্র্যাজিকমেডি রচনায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন। এই রচনাগুলি রোম্যান্স নামেও পরিচিত। এই সময় অন্যান্য নাট্যকারদের সঙ্গে যৌথভাবেও কয়েকটি নাটকে কাজ করেন তিনি। তাঁর জীবদ্দশায় প্রকাশিত নাটকগুলির প্রকাশনার মান ও প্রামাণ্যতা সর্বত্র সমান ছিল না। ১৬২৩ সালে তাঁর দুই প্রাক্তন নাট্যসহকর্মী দুটি নাটক বাদে শেকসপিয়রের সমগ্র নাট্যসাহিত্যের ফার্স্ট ফোলিও প্রকাশ করেন। তাঁর সমকালে শেকসপিয়র ছিলেন একজন সম্মানিত কবি ও নাট্যকার। কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁর খ্যাতি হ্রাস পেয়েছিল। অবশেষে ঊনবিংশ শতাব্দীতে খ্যাতির শীর্ষে ওঠেন। রোম্যান্টিকেরা তাঁর রচনার গুণগ্রাহী ছিলেন। ভিক্টোরিয়ানরা রীতিমতো তাঁকে পূজা করতেন; জর্জ বার্নার্ড শ’র ভাষায় যা ছিল চারণপূজা ("bardolatry")। বিংশ শতাব্দীতেও গবেষণা ও নাট্য উপস্থাপনার বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর রচনাকে পুনরাবিষ্কার করার চেষ্টা করা হয়। আজও তাঁর নাটক অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বহুচর্চিত। সারা বিশ্বের নানা স্থানের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নানা আঙ্গিকে এই নাটকগুলি মঞ্চস্থ ও ব্যাখ্যাত হয়ে থাকে।
রাজা রামমোহন রায় (মে ২২, ১৭৭২ – সেপ্টেম্বর ২৭, ১৮৩৩) প্রথম ভারতীয় ধর্মীয়-সামাজিক পুনর্গঠন আন্দোলন ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাঙালি দার্শনিক। তৎকালীন রাজনীতি, জনপ্রশাসন, ধর্মীয় এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে তিনি উল্ল্যেযোগ্য প্রভাব রাখতে পেরেছিলেন। তিনি সবচেয়ে বেশী বিখ্যাত হয়েছেন, সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করার প্রচেষ্টার জন্য। তখন হিন্দু বিধবা নারীদের স্বামীর চিতায় সহমরণে যেতে বা আত্মহুতি দিতে বাধ্য করা হত।
বইটির প্রথমার্ধে রাম্মোহনের জীবনী আলোচিত হয়েছে অনিলচন্দ্র ঘোষের লেখনীতে, দ্বিতীয়ার্ধে আছে রামমোহন রচনাবলী।
বুধবার, ২৪ জুন, ২০১৫
১৯৫২ সাল, পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র সমাজ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনমুখর। একুশে ফেব্রুয়ারির দিন মিছিলে গুলিবর্ষণ হলো। ভাষার জন্য জীবন দিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার। ঢাকা মেডিকেল কলেজ চত্বরে ভাষা শহীদদের মৃতদেহ দেখার জন্য ছাত্র-জনতার ভিড় জমে গেল। শহীদ বরকতের মৃতদেহ দেখে সেদিন ঢাকা কলেজের এক ছাত্রের ভাবান্তর হলো অন্যরকম। তাঁর মনে হলো, বরকত তো আর অন্য কেউ নয় সে যেন তাঁরই ভাই। মনের ভেতর তৈরি হলো তাঁর কবিতার লাইন 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।' এভাবেই লেখা হয়ে গেল একটি দীর্ঘ কবিতা। সেদিনের কলেজ পড়ুয়া মাত্র আঠারো বছর বয়সী ওই তরুণের নাম হচ্ছে আবদুল গাফফার চৌধুরী। তার সেই দীর্ঘ কবিতাটিতে প্রথমে সুর দেন আবদুল লতিফ। পরবর্তীতে আলতাফ মাহমুদের সুরে ওই কবিতাটি প্রভাত ফেরির গান হিসেবে অমর একুশের ব্যঞ্জনা নিয়ে আসে। যতদিন একুশে ফেব্রুয়ারি থাকবে ততদিন বেঁচে থাকবে ওই গান আর বাঙালী জাতি স্মরণ করবে একজন আবদুল গাফফার চৌধুরীকে।
আবদুল গাফফার চৌধুরীর গল্প সমগ্র ডাউনলোড করুন এখান থেকে...
আশাপূর্ণা দেবী (৮ই জানুয়ারি, ১৯০৯ – ১৩ই জুলাই, ১৯৯৫) বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি ঔপন্যাসিক, ছোটোগল্পকার ও শিশুসাহিত্যিক। বিংশ শতাব্দীর বাঙালি জীবন, বিশেষত সাধারণ মেয়েদের জীবনযাপন ও মনস্তত্ত্বের চিত্রই ছিল তাঁর রচনার মূল উপজীব্য। ব্যক্তিজীবনে নিতান্তই এক আটপৌরে মা ও গৃহবধূ আশাপূর্ণা ছিলেন পাশ্চাত্য সাহিত্য ও দর্শন সম্পর্কে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞা। বাংলা ছাড়া দ্বিতীয় কোনও ভাষায় তাঁর জ্ঞান ছিল না। বঞ্চিত হয়েছিলেন প্রথাগত শিক্ষালাভেও। কিন্তু গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও পর্যবেক্ষণশক্তি তাঁকে দান করে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখিকার আসন। তাঁর প্রথম প্রতিশ্রুতি-সুবর্ণলতা-বকুলকথা উপন্যাসত্রয়ী বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ রচনাগুলির অন্যতম বলে বিবেচিত হয়। তাঁর একাধিক কাহিনি অবলম্বনে রচিত হয়েছে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। দেড় হাজার ছোটোগল্প ও আড়াইশো-র বেশি উপন্যাসের রচয়িতা আশাপূর্ণা সম্মানিত হয়েছিলেন জ্ঞানপীঠ পুরস্কার সহ দেশের একাধিক সাহিত্য পুরস্কার, অসামরিক নাগরিক সম্মান ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রিতে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে প্রদান করেন পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সম্মান রবীন্দ্র পুরস্কার। ভারত সরকার তাঁকে ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান সাহিত্য অকাদেমী ফেলোশিপে ভূষিত করেন।
মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০১৫
ফ্ল্যাপে লেখা কথা
জন্ম: কলকাতা, ১৪ আগস্ট ১৯২৫।
শিক্ষা: সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ ও ইসলামিয়া কলেজ কলকাতা।
পেশা: চাকুরি। জেনারেল ম্যানেজার (অবসরপ্রাপ্ত), মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড।
প্রকাশিত গ্রন্থ: উপন্যাস: উত্তম পুরুষ;আমার যত গ্লানি; প্রসন্ন পাষাণ; প্রেম একটি লাল গোলাপ; সাধারণ লোকের কাহিনী; একালের রূপকথা; শ্যামা: বড়ই নিসঙ্গ; মায়ের কাছে যাচ্ছি;চিনি না; পদতলে রক্ত;লাঞ্চ বক্স।
গল্প: প্রথম প্রেম।
প্রবন্ধ: আর এক দৃষ্টিকোণ; অতীত হয় নূতন পুনরায়; মনের গহনে তোমার মুরতিখানি।
স্মৃতিকথা: জীবন-মরণ।
পুরস্কার: আদমজী পুরস্কার (১৯৬১) ;বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৭২); একুশে পদক (১৯৮৪); লেখিকা সংঘ পুরস্কার (১৯৯১); জনকন্ঠ গুনীজন সম্মানন (২০০১); কাজী মাহবুবউল্লাহ জেবুন্নেসা ট্রাস্ট পুরস্কার( ২০০২) । ১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ সালে পর্যন্ত তিনি সওগাত,মোহম্মদী,পূর্বাশা, নবযুগ, মিল্লাত প্রভৃতি পত্রিকায় গল্প লিখে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এই সময় তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিওর কলকাতা কেন্দ্র থেকে নিয়মিত গল্প ও কথিকা প্রচার করতেন। ১৯৪৫ সালের দিকে এসে লেখালেখি ছেড়ে দেন এবং ১৯৬১ সালে পুনরায় শুরু করেন। প্রথম উপন্যাস ‘উত্তম পুরুষ’ লিখেই আদমজী পুরস্কর লাখ করেন। ‘স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধকে অবলম্বন করে আমার যত গ্লানি’ (১৯৭৩) উপন্যাস রচনা করেন। লিখেছেন অনেক তাৎপর্যময় প্রবন্ধ এবং স্মরণীয় গুটিকয় গল্প। ১৯৯২ সাল থেকে অসুস্থ হয়ে গৃহবন্দি জীবনযাপন করেছেন। আবার রুদ্ধ হয়ে গেছে তাঁর ক্ষুরধার কলম।
সূচিপত্র
* উত্তম পুরুষ
* প্রসন্ন পাষণ
* আমার যত গ্লানি
* প্রেম একটি লাল গোলাপ
* সাধারণ লোকের কাহিনী
* একালের রূপকথা
* শ্যামা
* বড়ই নিসঙ্গ
* মায়ের কাছে যাচ্ছি
* চিনি না
* পদতলে রক্ত
* লাঞ্চ বক্স।
ভূমিকা
এবারো দীর্ঘকাল পর ‘উত্তম’ পুরুষ’ আবার প্রকাশিত হলো বিউটি বুক হাউজের প্রতিষ্ঠাতা হামিদুল ইসলাম-এর আন্তরিক প্রচেষ্টায়। আজকের পাঠকদের কাছেও বইটি আগের মতোই সমাদৃত হবে বলে আমার বিশ্বাস।
-রশীদ করীম
ধানমন্ডি,ঢাকা,ফেব্রুয়ারি ২০০১
জহির রায়হান রচনাবলীর প্রথম খণ্ডে জহির রায়হানের লেখা অসাধারণ চারটি উপন্যাস স্থান পেয়েছে। উপন্যাসগুলো হল ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’, ‘হাজার বছর ধরে’, ‘আরেক ফাল্গুন’ এবং ‘বরফ গলা নদী’। এই চারটি উপন্যাসের প্রত্যেকটিই অত্যন্ত শক্তিশালী এবং স্ব-মহিমায় বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে স্থান পাবার মত। এই উপন্যাসগুলো পড়ার সময় পাঠক আরও একবার জহির রায়হানের লেখনীর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পাবেন।
জহির রায়হানের লেখার সবচেয়ে অনন্য বৈশিষ্ট্য হল ছোট ছোট বাক্যের ব্যবহার। অল্প শব্দে খুব জোরালো বাক্য তৈরি করার ক্ষমতা লেখক রাখেন। এবং অল্প শব্দে তৈরি হওয়া এই বাক্যগুলোর ভাব প্রকাশ করার ক্ষমতা যেন সাধারণ বাক্যের চেয়েও কয়েকগুণ বেশি হয়। পাঠক এই চারটি উপন্যাস পড়ার সময়ও এই ধরনের বাক্যের ব্যবহার প্রচুর পরিমাণে পাবেন।
অস্বাভাবিক প্রতিভার অধিকারী ক্ষণজন্মা লেখক জহির রায়হান রচিত এই অসামান্য চারটি উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে আগ্রহী সব পাঠকের জন্যেই অবশ্যপাঠ্য।
জহির রায়হান রচনাবলীর দ্বিতীয় খণ্ডে জহির রায়হানের লেখা তিনটি অসাধারণ উপন্যাস ‘আর কত দিন’, ‘তৃষ্ণা’, ‘কয়েকটি মৃত্যু’ স্থান পেয়েছে। এছাড়া এই গ্রন্থে জহির রায়হানের লেখা সব ছোটগল্পের সংকলন গল্পসমগ্রও স্থান পেয়েছে। গল্পসমগ্রে সর্বমোট ১৯ টি ছোটগল্প আছে। জহির রায়হানের লেখা উপরোক্ত তিনটি উপন্যাস এবং ছোটগল্পগুলোর প্রত্যেকটিই পাঠকদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবার মতন। জহির রায়হানের লেখনীর শক্তিমত্তা সম্পর্কে পাঠক আরও একবার ধারণা পাবেন এই বইয়ে।
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় (৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৮ - ৬ নভেম্বর, ১৯৭০) একজন ভারতীয় বাঙালি লেখক । জন্ম অবিভক্ত বাংলার (অধুনা বাংলাদেশের অন্তর্গত) দিনাজপুরে। শিক্ষাজীবন দিনাজপুর, ফরিদপুর, বরিশাল ও কলকাতায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র ছিলেন। তিন খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর প্রথম উপন্যাস উপনিবেশ (১৯৪২, ১৯৪৫, ১৯৪৬) পাঠকসমাজে সমাদৃত হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প সংকলন বীতংস (১৯৪৫), দুঃশাসন (১৯৪৫), ভোগবতী (১৯৪৭) এবং উল্লেখযোগ্য উপন্যাস বৈজ্ঞানিক(১৯৪৭), শিলালিপি (১৯৪৯), লালমাটি (১৯৫১), সম্রাট ও শ্রেষ্ঠী (১৯৫৫), পদসঞ্চার (১৯৫৪)। সাহিত্যে ছোটগল্প তাঁর একটি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ। ছোটদের জন্য তাঁর সৃষ্ট কাল্পনিক চরিত্র টেনিদা খুবই জনপ্রিয় ।
ছয় খন্ডে সমাপ্ত তার সম্পূর্ন রচনাবলী ডাউনলোড করুন নিচে...
প্রথম খণ্ড
দ্বিতীয় খণ্ড
তৃতীয় খণ্ড
চতুর্থ খণ্ড
পঞ্চম থণ্ড
ষষ্ঠ খণ্ড
এডগার অ্যালান পো (ইংরেজি Edgar Allan Poe, জানুয়ারি ১৯, ১৮০৯ - অক্টোবর ৭, ১৮৪৯) একজন মার্কিন কবি, ছোট গল্পকার, সম্পাদক, সমালোচক এবং যুক্তরাষ্ট্রের রোমান্স আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন। বৈচিত্র্যময় জীবনের অধিকারী এই প্রতিভাবান সাহিত্যিকের সারা জীবন কাটের নানা রকম যন্ত্রণা, আর্থিক দৈন্যদশা ও মানসিক অস্থিরতার মধ্যে। বিশ বছর বয়স হবার আগেই তিনি লেখালেখি শুরু করেন এবং তখনই তাঁর কিছু কিছু রচনা প্রকাশিত হয়। ১৮৪৯ সালে পো রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যুমুখে পতিত হন। জীবদ্দশায় এক দিকে তিনি অসংযমী জীবন যাপন করেছেন, জুয়ো খেলেছেন, অসুস্থ হয়েছেন, মাদক দ্রব্য সেবন করেছেন। মৃত্যুর এক বছর পূর্বে ঘুমের বড়ি খেয়ে এক বার আত্নহত্যারও প্রয়াস পান। অন্য দিকে এত সবের মধ্যেও কয়েকটি গভীর আবেদনময় কবিতা ও ব্যতিক্রমধর্মী ছোটগল্প রচনা করে শুধু মার্কিন সাহিত্যভুবনে নয়, বিশ্বসাহিত্যের অঙ্গনে নিজের জন্য একটি গৌরবমন্ডিত স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। তাঁর বিখ্যাত কবিতাগুলির মধ্যে রয়েছে ‘হেলেনের প্রতি’, ‘স্বপ্ন’, ‘ইস্রাফিল’, ‘দাঁড়কাক’, ‘অ্যানাবেল লী’ প্রভৃতি। ‘দ্য রেভেন’ বা ‘দাঁড়কাক’ কবিতাটি রোম্যান্টিকতা, মোহন সুরেলা ছন্দোময়তা ও তার রহস্যময় পরিমণ্ডলের জন্য বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতারূপে স্বীকৃতি লাভ করেছে। পো তাঁর বেশ কয়েকটি ছোটগল্পে উল্লেখযোগ্য নৈপুণ্যের সঙ্গে রহস্যময়, ভুতুড়ে, মৃত্যুর গন্ধমাখা, খুনখারাবি ভরা, আতঙ্কতাড়িত পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। গোয়েন্দা-গল্পের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান স্মরণীয়। উপরি-উক্ত ধারার রচনার মধ্যে ‘আমন্তিলাডোর পিপা’, ‘কালো বিড়াল’, ‘রু মর্গের হত্যাকাণ্ড’ এবং ‘চুরি যাওয়া চিঠি’ তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দিয়েছে। পো-র উচ্চমানের রচনাশৈলী এবং প্রতীকবাদী দৃষ্টিভঙ্গি পরবর্তী কালের অনেক শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক কর্তৃক উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে। এঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেন আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েট্স্ ও ফরাসি কথাসাহিত্যিক মোপাসাঁ এবং কবি শার্ল বোদ্ল্যার ও অল ভালেরি। আজও পো-র সাহিত্যকর্ম সাধারণ পাঠক ও বিদগ্ধ সমালোচক সবার কাছে সমাদৃত হচ্ছে।
সৈয়দ মুজতবা আলী (সেপ্টেম্বর ১৩, ১৯০৪ - ফেব্রুয়ারি ১১, ১৯৭৪) একজন বিংশ শতকী বাঙালি সাহিত্যিক। তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, অনুবাদক ও রম্যরচয়িতা। তিনি তাঁর ভ্রমণকাহিনীগুলির জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়। বহুভাষাবিদ সৈয়দ মুজতবা আলীর রচনা একই সঙ্গে পাণ্ডিত্য এবং রম্যবোধে পরিপুষ্ট।
তার রচনাবলী ডাউনলোড করতে নিচে ক্লিক করুন...
প্রথম খণ্ড
দ্বিতীয় খণ্ড
তৃতীয় খণ্ড
চতুর্থ খণ্ড
পঞ্চম খণ্ড
ষষ্ঠ খণ্ড
সপ্তম খণ্ড
অষ্টম খন্ড
নবম খণ্ড
দশম খণ্ড
একাদশ খণ্ড


