বুধবার, ২৪ জুন, ২০১৫
পাবলো নেরুদা: পরাবাস্তব এক বিপ্লবী কবি। কলোম্বিয়ান ঔপন্যাসিক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মারকেজ এর মতে নেরুদা কুড়ি শতকের যে কোনও ভাষার অন্যতম কবি। আমরা জানি পরাবাস্তববাদ তাঁর হাতেই সফলভাবে কর্ষিত হয়েছে। পাবলো নেরুদার আসল নাম নেফটালি রিকার্ডো রেইয়েস বাসোয়ালটো । তাহলে পাবলো নেরুদা? ... পাবলো নেরুদা ছদ্মনাম। জা নেরুদা ছিলেন একজন চেক কবি । নেরুদা শব্দটা নিয়েছেন ওখান থেকেই। আর পাবলো? সম্ভবত ফরাসি কবি পল ভার্লেইন থেকে নেওয়া। কিন্তু, ছদ্ম নাম নেওয়ার কি কারণ? প্রথমত ছদ্মনাম নেওয়া অনেকটা সেকালের প্রথা। আর দ্বিতীয় কারণ ... বাবার চোখ এড়ানো। নেরুদার বাবা ছিলেন কট্টর নীতিবাগীশ -চাইতেন ছেলে কবিতা-টবিতা না লিখে বাস্তবসম্মত কিছু একটা করুক ।
নেরুদার সাহিত্যকর্মে বিভিন্ন প্রকাশ শৈলী ও ধারার সমাবেশ ঘটেছে। একদিকে তিনি যেমন লিখেছেন টোয়েন্টি পোয়েমস অফ লাভ অ্যান্ড আ সং অফ ডেসপায়ার-এর মতো কামোদ্দীপনামূলক কবিতা সংকলন, তেমনই রচনা করেছেন পরাবাস্তববাদী কবিতা, ঐতিহাসিক মহাকাব্য, এমনকি প্রকাশ্য রাজনৈতিক ইস্তাহারও। ১৯৭১ সালে নেরুদাকেসাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
জীবদ্দশায় নেরুদা একাধিক কূটনৈতিক পদে বৃত হয়েছিলেন। একসময় তিনি চিলিয়ান কমিউনিস্ট পার্টির সেনেটর হিসেবেও কার্যভার সামলেছেন। কনজারভেটিভ চিলিয়ান রাষ্ট্রপতি গঞ্জালেস ভিদেলা চিলি থেকে কমিউনিজমকে উচ্ছেদ করার পর নেরুদার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে তাঁর বন্ধুরা তাঁকে চিলির বন্দরভালপারাইসোর একটি বাড়ির বেসমেন্টে কয়েক মাসের জন্য লুকিয়ে রাখেন। পরে গ্রেফতারি এড়িয়ে মাইহু হ্রদের পার্বত্য গিরিপথ ধরে তিনি পালিয়ে যান আর্জেন্টিনায়। কয়েক বছর পরে নেরুদা সমাজতন্ত্রী রাষ্ট্রপতি সালভাদর আলেন্দের এক ঘনিষ্ট সহকারীতে পরিণত হন।
চিলিতে অগাস্তো পিনোচেটের নেতৃত্বাধীন সামরিক অভ্যুত্থানের সময়েই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন নেরুদা। তিন দিন পরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। জীবন্ত কিংবদন্তি নেরুদার মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পিনোচেট নেরুদার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে জনসমক্ষে অনুষ্ঠিত করার অনুমতি দেননি। যদিও হাজারে হাজারে শোকাহত চিলিয়ান সেদিন কার্ফ্যু ভেঙে পথে ভিড় জমান। পাবলো নেরুদার অন্ত্যেষ্টি পরিণত হয় চিলির সামরিক একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রথম গণপ্রতিবাদে।
মঙ্গলাচরন চট্টোপাধ্যায় এর অনুবাদে পাবলো নেরুদার কবিতার বইটি ডাউনলোড করুন...
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০১৫
পাবলো নেরুদা আসল নাম নেফ্তালি রিকার্দো রেইয়েস বাসোআলতো। জন্ম চিলের পাররাল শহরে, ১২ জুলাই ১৯০৪। শিক্ষাজীবনে আয়ত্ত করেন গ্রিক, লাতিন ও ফরাসি ভাষা; জড়িত হন ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে। প্রকাশ করেন একাধিক সাহিত্য সাময়িকী। ১৯২৩-এ প্রথম কবিতার বই প্রকাশিত হয়। চিলের বাণিজ্য-দূত হিসেবে ভারতসহ বিশ্বের বহু দেশে কাজ করেছেন। ১৯৪৫ সালে চিলের ব্যবস্থাপক সভার সদস্য হন। কমিউনিস্ট পার্টির সমর্থনে চিলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হন ১৯৭০-এ; পরে প্রতিদ্বন্দ্বী সালবাদোর আয়েন্দের সমর্থনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। ১৯৭১ সালে লাভ করেন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার। ১৯৭৩-এর ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। অনুবাদক পরিচিতি ভবানীপ্রসাদ দত্ত জন্ম কলকাতায়, ১৯২৯-এ। আদিনিবাস বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরের রসুনিয়া গ্রামে। পেশায় একজন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক। ছাত্রজীবনেই সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ তৈরি হয়। তাঁর করা পাবলো নেরুদার মেমোয়ার্স-এর বাংলা অনুবাদ অনুস্মৃতি প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক সমাদর লাভ করে। নাটক, চলচ্চিত্র ও সংগীতেও রয়েছে তাঁর গভীর আগ্রহ ।
পাবলো নেরুদার এই আত্মজীবনীর সূত্রে আমরা কেবল একটি যুগের বিভিন্ন দেশের বহু বিশিষ্ট ও বরেণ্য কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক ও রাজনীতিকের নিবিড় সান্নিধ্যে আসারই সুযোগ পাব না, পাব একটি বিশাল কালপর্বের সাংস্কৃতিক, সাহিত্যিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্থান-পতনেরও বহু বিচিত্র ঘটনার হার্দিক বিবরণ। এ গ্রন্থে তাঁর স্বদেশের প্রকৃতি, সমাজ ও রাজনীতি যেমন জীবন্ত, তেমনি জীবন্ত তাঁর একান্ত জীবনাচারের বহু বর্ণিল বিবরণ। অনুস্মৃতির পাঠ তাই এক বিরল অভিজ্ঞতা।